পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর রঙিন মঞ্চে হাসিমুখে সঞ্চালনা চালিয়ে গেলেও পর্দার আড়ালে তীব্র শারীরিক অস্বস্তি ও গলার সমস্যায় বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি।
ছোট পর্দায় প্রতিদিন নিয়মিত দৈনিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার অভিজ্ঞতা স্বস্তিকার জন্য এবারই প্রথম; ইতিপূর্বে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চে সঞ্চালক হিসেবে দেখা গেলেও প্রতিদিনের দীর্ঘ শুটিংয়ের নতুন দায়িত্ব তাঁর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সফল ও মূল পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি; তাঁর তৈরি করা সেই বিশাল সাম্রাজ্য ও জনপ্রিয়তায় নতুন সঞ্চালক হিসেবে নিজেকে নিখুঁতভাবে মানিয়ে নেওয়া স্বস্তিকার জন্য এমনিতেই সহজ ছিল না।
তার ওপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন একটানা অনর্গল কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলায় ব্যাপক ক্লান্তি চেপে বসেছে এবং সুর কেটে ভাঙা গলার সৃষ্টি হয়েছে।
শুটিং চলাকালে প্রতিযোগী ও স্টুডিওর দর্শকদের উদ্দেশে হাস্যরসের ছলে স্বস্তিকা বলেন, “আমাকে ক্ষমা করবেন, নিজের মনে করে ক্ষমা করে দেবেন; আজ আমার গলাটা ঠিক ব্যাঙের মতো শোনাচ্ছে।”
পরে কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী জানান, শুটিং সেটের কনকনে ঠান্ডা এসিতে টানা দাঁড়িয়ে কথা বলার কারণেই মূলত তাঁর গলার স্বরযন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ে দীর্ঘক্ষণ টানা সংলাপ বলতে হয় না, কিন্তু এমন রিয়েলিটি শোতে অনবরত প্রতিযোগী ও দর্শকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়; আবার সেটের ভারী আলোর তীব্র উত্তাপ সামলাতে এসি বন্ধ রাখাও কোনোভাবে সম্ভব নয়।
তবে গলার এই তীব্র সমস্যা ও ঠান্ডাজনিত শারীরিক অস্বস্তিতে দমে যেতে নারাজ এই অভিনেত্রী; শারীরিক সাময়িক অসুস্থতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে প্রতিবারই দৃঢ়তার সঙ্গে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সঞ্চালনা অব্যাহত রাখছেন স্বস্তিকা মুখার্জি।

