GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আনন্দ নগর / তারকারা কেন সাংবাদিকের প্রশ্নের বদলে ফেসবুকে বক্তব্য দিচ্ছেন

তারকারা কেন সাংবাদিকের প্রশ্নের বদলে ফেসবুকে বক্তব্য দিচ্ছেন

তারকারা কেন সাংবাদিকের প্রশ্নের বদলে ফেসবুকে বক্তব্য দিচ্ছেন

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে তারকাদের বক্তব্য প্রকাশের ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কথা বলার পাশাপাশি অনেক তারকা এখন ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিষয়ে সরাসরি ফেসবুকে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। এতে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের ধরনও বদলে যাচ্ছে।

শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, মেহজাবীন চৌধুরী, বিদ্যা সিনহা মিম, সাবিলা নূর, পূজা চেরী ও তানজিন তিশাসহ অনেক তারকাই বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীমনি দীর্ঘ একটি ফেসবুক পোস্টে ২০২১ সালের গ্রেফতারের ঘটনা নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। পরে তার সেই পোস্ট সংবাদমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

মেহজাবীন চৌধুরীর ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। একটি মামলা নিয়ে তিনি ফেসবুকে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন। তানজিন তিশাও তাকে ঘিরে একটি মামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে পরে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

কেন ফেসবুককে বেছে নিচ্ছেন তারকারা?

এর অন্যতম কারণ নিজের বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। প্রচলিত সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। এরপর সেই উত্তর সম্পাদনা করে সংবাদ তৈরি হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকা নিজেই ঠিক করতে পারেন কী বলবেন এবং কোন তথ্য প্রকাশ করবেন।

একটি পোস্টে ছবি, ভিডিও কিংবা বিস্তারিত বক্তব্যও যুক্ত করা যায়। পোস্ট প্রকাশের পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও সরাসরি পাওয়া যায়। ফলে তারকারা নিজেদের বক্তব্য দ্রুত বড় একটি শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

ব্যক্তিগত পরিসর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যা সিনহা মিম এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত বিষয় ব্যক্তিগত রাখার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে নিজের কাজ, পরিবার ও দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

সময় ও সরাসরি যোগাযোগও বড় কারণ

সাক্ষাৎকারের জন্য সাংবাদিকের সঙ্গে সময় নির্ধারণ, কথা বলা ও ছবি তোলার প্রয়োজন হয়। ফেসবুক পোস্টের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই কয়েক মিনিটের মধ্যে বক্তব্য প্রকাশ করা যায়।

শাকিব খান থেকে জয়া আহসান, অপু বিশ্বাস, বুবলী ও মেহজাবীনসহ অনেক তারকাই কাজের খবর কিংবা ব্যক্তিগত বক্তব্য সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

তারকার নিজের ফেসবুক পোস্ট এবং সাংবাদিকতার প্রতিবেদন এক বিষয় নয়। একটি পোস্টে তারকা নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সেই বক্তব্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য নেওয়া।

কোনো অভিযোগের পেছনে কী ঘটনা রয়েছে, তার পক্ষে কী নথি আছে এবং অন্য পক্ষ কী বলছে, সেসব তথ্যও পাঠকের সামনে তুলে ধরতে হয়।

ধরা যাক, কোনো তারকা লিখলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা হচ্ছে।’ সেটি অবশ্যই সংবাদযোগ্য বক্তব্য হতে পারে। তবে সাংবাদিকতার কাজ সেখানেই শেষ নয়। অভিযোগের ধরন, অপর পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করাও জরুরি।

‘ভাইরাল’ আর ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এক নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেই সেটি সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় না। ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা এবং সংবাদমূল্য এক বিষয় নয়।

তারকার কোনো পোস্টে বিপুল প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও সেটির তথ্য যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। আবেগপ্রবণ বা একপক্ষীয় বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। তাই পোস্টকে সরাসরি চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।

বদলে যাচ্ছে বিনোদন সাংবাদিকতা

এই পরিবর্তনের ফলে বিনোদন সাংবাদিকতার ধরনও বদলাচ্ছে। আগে ‘তারকা কী বললেন’ বিষয়টি অনেক সময় মূল সংবাদ হয়ে উঠত। এখন তারকার বক্তব্যের পাশাপাশি বক্তব্যের পেছনের ঘটনা ও প্রেক্ষাপট খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

গণমাধ্যম গবেষণাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই দ্বৈত ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। ফেসবুক সাংবাদিকদের দ্রুত খবর ছড়াতে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পেতে এবং সংবাদ বা সূত্রের ক্লু খুঁজে পেতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাই ও সাংবাদিকতার নৈতিক চর্চা নিয়েও ঝুঁকি রয়েছে।

তাই তারকারা সাংবাদিকতাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছেন, এমনটা বলা যায় না। বরং তারকা ও গণমাধ্যমের সম্পর্কের ধরন বদলাচ্ছে। তারকার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সাংবাদিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উৎস হয়ে উঠেছে।

এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কোনো তারকা ভুলভাবে উদ্ধৃত হলে নিজের প্ল্যাটফর্মে দ্রুত বক্তব্য পরিষ্কার করতে পারেন। গুজব ছড়ালে সরাসরি প্রতিবাদ জানাতে পারেন। দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার সুযোগও পান।

তবে তারকার পোস্ট একপক্ষীয় বা অসম্পূর্ণ হতে পারে। সে কারণে সাংবাদিকের কাজ শুধু পোস্টটি তুলে ধরা নয়। তথ্য যাচাই, প্রেক্ষাপট খোঁজা, নথি পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে সাক্ষাৎকারের জায়গা কিছুটা বদলালেও সাংবাদিকতার প্রয়োজন শেষ হচ্ছে না। বরং তারকাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে প্রাথমিক সূত্র হিসেবে নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক ও প্রেক্ষাপটনির্ভর সাংবাদিকতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

Social Icons