চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে পন্টুনে নামার সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিন (৩২) নামের এক যুবকের মরদেহ দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টার নিবিড় তল্লাশি অভিযান শেষে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের সন্নিকটে মেঘনা নদী থেকে বিআইডব্লিউটিএ এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ ডুবুরি দল ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ নামের একটি লঞ্চ ষাটনল ঘাটে নোঙর করলে ভিড়ের মাঝে নামার সময় দুর্ঘটনাবশত রবিন মেঘনা নদীতে পড়ে তলিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিন প্রথমে লঞ্চ থেকে পন্টুনে নামলেও তার একটি ব্যাগ ভেতরে রয়ে গেছে মনে করে পুনরায় লঞ্চে ওঠেন; পরবর্তীতে আবার তড়িঘড়ি করে নামার সময় লঞ্চটি হঠাৎ পেছনের দিকে সরে গেলে তিনি লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা চালান এবং ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে তলিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই ঘাতক ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি না থেমে দ্রুত মোহনপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরবর্তীতে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি জব্দ করে এবং মাস্টার মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার সুমন মিয়াকে (২৭) আটক করে।
রবিনের পরিচয় মেলেনি প্রথমে, তবে নদীতে ভেসে থাকা তার ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড দিয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় যে নিখোঁজ ব্যক্তি শরীয়তপুরের সন্তান এবং নারায়ণগঞ্জ নিবাসী রবিন।
রবিনের মৃত্যুর খবরে তার স্ত্রী নাসরিন সন্তানকে নিয়ে ঘাটে এসে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন; পরবর্তীতে এই ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে একটি মামলা দায়েরের এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ ও চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, শক্তিশালী স্রোত ও নদীর বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও টানা ২৬ ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টার পর নিখোঁজ যুবকের মৃতদেহটি সফলভাবে উদ্ধার করে স্বজনদের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
