GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ১৯৭১-এর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের স্মৃতি টেনে যুদ্ধের রূপরেখা নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের বার্তা

১৯৭১-এর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের স্মৃতি টেনে যুদ্ধের রূপরেখা নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের বার্তা

প্রযুক্তির বৈপ্লবিক বিকাশ যুদ্ধের লড়াইয়ের সময়সীমাকে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করলেও পুরো সংঘাতকে তা সংক্ষিপ্ত করতে সক্ষম হচ্ছে না এবং আধুনিক যুগের যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও স্থলভাগে সরাসরি ভূখণ্ড দখল ও বিজয়ের গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট’-এ প্রদত্ত বক্তব্যে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সংঘাতের যুগেও মাটিতে সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এই পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির নানা প্রচারণার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বয়ান প্রায়শই প্রকৃত সংঘাতের সত্যতাকে আড়াল করে ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে; তবে বাস্তব সত্য হলো, স্থলভাগের সাফল্যই যুদ্ধের প্রকৃত এবং একমাত্র কার্যকর মাপকাঠি। অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও বিজয়ের পরিমাপ হবে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষার ভিত্তিতে—যা কেবল সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ পদচারণেই সম্ভব।”

নিজের আলোচনার একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেনারেল ধীরাজ শেঠ বলেন, “ঐতিহাসিক সেই চিত্রটি ছিল একটি যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ও চিরন্তন সমাপ্তির মুহূর্ত; তবে আধুনিক যুগে লড়াইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাপ্তি বিন্দু প্রায় দেখাই যায় না।”

বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তিনি যোগ করেন, “আজকের সংঘাতগুলোকে মূলত ‘বিরতিসহ যুদ্ধ’ বা বিচ্ছিন্ন পর্ব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়; প্রযুক্তি সংঘাতের ধরন বদলালেও পুরো যুদ্ধকে ছোট করে না। এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটে বিজয়ী ও বিজিতের মধ্যকার পার্থক্য গড়ে দেয় প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জামের ‘আত্মনির্ভরতা’।”

পরনির্ভরশীলতা এড়াতে নিজস্ব সক্ষমতা জোরদারের তাগিদ দিয়ে এনডিটিভির সম্মেলনে জেনারেল শেঠ স্পষ্ট জানান, আত্মনির্ভরতার মূল অর্থ হলো এমন স্বাবলম্বী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে সংকটের মুহূর্তে অন্য দেশের সরবরাহের ওপর নির্ভর করে দেশকে কোনো সীমাবদ্ধতায় পড়তে না হয়।

Social Icons