জ্বালানি তেলের হঠাৎ বর্ধিত মূল্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার, বিইআরসির গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির সঠিক মূল্য নির্ধারণ, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সংগঠনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত মশাল মিছিল বের করেন।
সমাবেশে বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের সদস্য মাহমুদুল হাসান বলেন, সাধারণ জনগণের সাথে আলোচনা ও উন্মুক্ত গণশুনানি করা ছাড়াই একতরফাভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে এর প্রত্যক্ষ ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ওপর।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাহী আদেশে এক লাফে তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও সরকার চাইলে কর ও শুল্কের হার কমিয়ে এই অতিরিক্ত মূল্যের চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে পারত।
তিনি আরও বলেন, শুধু জ্বালানি খাতই নয়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব বিস্তার ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে। একই সাথে সারা দেশে হামলা, দখলদারি ও ভাঙচুরের ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আল-আমীন রহমান বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে কৃষকের সেচ উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্যের সার্বিক পরিবহন খরচ বাড়বে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ধারাবাহিকভাবে ঘটতেই থাকবে।
সমাবেশ থেকে জনস্বার্থে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন:
- ১. জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
- ২. গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের যুক্তিসঙ্গত মূল্য নির্ধারণ করা।
- ৩. গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা।
- ৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
- ৫. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা।
