GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আজকের খবর / ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ ও এনআইডি জালিয়াতি: হাইকোর্টের রুল

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ ও এনআইডি জালিয়াতি: হাইকোর্টের রুল

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ ঘিরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য ব্যবহার এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন।

রুলে একই সঙ্গে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ওই বিয়েকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এনআইডি জালিয়াতি, প্রতারণামূলক পরিচয় ব্যবহার ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নির্বাচন কমিশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ও চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এই রুলের ব্যাখ্যা ও জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নথিপত্র ও রিট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে তাসনুভা আনান শিশিরকে কনে হিসেবে উপস্থাপন করে একটি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ঘটনাটি দেশের প্রথম ‘ট্রান্সজেন্ডার বিয়ে’ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এর প্রেক্ষাপটে গত ৩০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আদালতে রিটের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ।

রিটের আইনি ভিত্তি ও জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বা কোনো ধর্মীয় বিধানে সমলিঙ্গ কিংবা স্বঘোষিত ‘ট্রান্সজেন্ডার’ পরিচয়ে বিয়ের কোনো আইনি বা ধর্মীয় স্বীকৃতি নেই। আমাদের দেশে ‘হিজড়া’ জনগোষ্ঠী তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হলেও ট্রান্সজেন্ডার ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ঘটনায় মূলত একজন জন্মগত পুরুষ আরেকজন পুরুষকে বিয়ে করেছেন, যা রাষ্ট্রীয় আইনে স্পষ্টত অসংগত।”

এনআইডি জালিয়াতির বিস্তারিত উল্লেখ করে তিনি জানান, বিয়ের অনুমতির জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়া হয়। তারা হিন্দু পরিচয় ধারণ করে অনুমতি আদায় করে। প্রকৃতপক্ষে ওই এনআইডিটির প্রকৃত মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তাঁর এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নাম, ছবি, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে ‘শিশির বিশ্বাস’ নামের ভুয়া পরিচয়পত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ার পর মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো আইনি মামলা গ্রহণ বা তদন্ত শুরু করেনি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণে সমাজে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে ২০২৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া একটি সুনির্দিষ্ট চিঠির কথা স্মরণে এনে তিনি বলেন, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে বাংলাদেশে লিঙ্গ পরিবর্তন বা রূপান্তরের কোনো আইনি অনুমোদন নেই।

Social Icons