GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সোনার দাম / বিশ্ববাজারে হু-হু করে কমছে স্বর্ণের দাম, সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

বিশ্ববাজারে হু-হু করে কমছে স্বর্ণের দাম, সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম বাড়ার কথা থাকলেও, বর্তমান বিশ্ববাজারে ঘটেছে ঠিক উল্টো ঘটনা—ধারাবাহিকভাবে কমছে স্বর্ণের দাম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৩.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪৬.৫১ ডলারে, যা গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে স্বর্ণের দাম আরও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা ও গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে আগাম সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ৩.৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৭৮.৪০ ডলারে স্থির হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধি, শক্তিশালী মার্কিন ডলারের তেজিভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও ঋণের বোঝা বৃদ্ধির ভয় তৈরি হয়েছে। ফলে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দরপতনের ওপর নতুন করে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। আজ বেলা তিনটার বাজার দর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি গত ৫ আগস্টের পর থেকে সর্বনিম্ন মূল্য।

সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে আর্থিক নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, ব্যাংক বা বন্ডের সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ দ্রুত হ্রাস পায়। আমানত বা বন্ড থেকে যেখানে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়া যায়, স্বর্ণ ধারণ করে সেই নগদ সুদ পাওয়া যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্স’-এর সিইও শরিফ ওথমান আল-জাজিরাকে বলেন, “সাধারণ ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব দৃশ্যমান না হলেও, যারা স্বর্ণে মূলধন বিনিয়োগ করেছিলেন তারা চরম লোকসানের মুখে পড়বেন। বিশেষ করে ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ বিক্রি করে মুনাফাযুক্ত সম্পদে ঝুঁকে পড়েন, যার সরাসরি প্রভাবে স্বর্ণের বাজারে ধস নামে।”

এর মধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতি সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়েছে এবং সামনে এটি আরও বাড়ার আভাস দেওয়া হয়েছে। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরান সংঘাত নিরসন ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম এক লাফেই ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।

আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের প্রধান বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফের মতে, চড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদ ও শক্তিশালী মার্কিন ডলারের যুগপৎ উপস্থিতিই স্বর্ণের দাম দ্রুত কমে যাওয়ার মূল আদর্শ নিয়ামক।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন ঘটেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুরও। আজ রুপার দাম ১.০৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬০.০৭ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারদরও নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে।

Social Icons