GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনেই ৩ লাখ ইয়াবা, গ্রেফতার ৩

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনেই ৩ লাখ ইয়াবা, গ্রেফতার ৩

কক্সবাজার শহরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের ঠিক সামনের একটি অভিজাত ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ৩ লাখ ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, ঢাকায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে এসব ট্যাবলেট ফ্ল্যাটটিতে মজুত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।

নবম তলার ফ্ল্যাটে অভিযান

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউস রোডের কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলার নবম তলার ৮/এ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল ফ্ল্যাটটিতে অভিযান চালায়। তল্লাশির সময় শয়নকক্ষের কেবিনেটের ভেতরে রাখা দুটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৩০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলোতে মোট ৩ লাখ ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট ছিল বলে জানায় পুলিশ। এ সময় তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার তিনজন, পলাতক আরও একজন

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের আরমান বয়াতী (২৭), পিরোজপুরের মো. শামীম (৩০) এবং ভোলার মো. রাকিব (২৫)।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবাগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জের মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য ফ্ল্যাটটিতে রাখা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি রাহাদের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

২০ লাখ ইয়াবা পাঠানোর দাবি

গ্রেফতার আরমান বয়াতী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, এর আগে দুই লাখ পিস করে ১০টি চালানে মোট ২০ লাখ পিস ইয়াবা রাহাদ হোসেনের কাছে পাঠিয়েছেন।

তবে তাঁর এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট চালানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ

পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটটিতে কারা যাতায়াত করতেন, তা শনাক্ত করতে ভবনটির গত এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মাদক মজুত ও পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের অভিযোগ, গ্রেফতার তিনজন ও পলাতক রাহাদ পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটটি ইয়াবা মজুত ও কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে মাদক মজুত নিয়ে উদ্বেগ

পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও প্রেসক্লাবের ঠিক সামনের ভবনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম হেলালী।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থাপনার সামনে এমন জায়গায় মাদক মজুত ও ব্যবসা করার ঘটনা মাদক কারবারিদের বেপরোয়া মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইয়াবা উদ্ধারে পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, শহরে এ ধরনের আরও মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। সেগুলো শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

কক্সবাজারকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন বাহারী মন্তব্য করেছেন, কক্সবাজার শহরকে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাঁর অভিযোগ, শহরের কিছু অভিজাত ভবনে বড় মাদক কারবারিদের বসবাসের কথা শোনা যায়। বেশি ভাড়া এবং বাসিন্দাদের পরিচয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত খোঁজখবর না রাখার সুযোগে এসব ভবন মাদক মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

মমতাজ উদ্দিন বাহারী আরও বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং সাংবাদিকদের কারও কারও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে পেশা বা পরিচয় বিবেচনা না করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।

Social Icons