মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছে ইরান। তবে আলোচনা শেষে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সংকটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিন দেশের কর্মকর্তারা ইরান সফর করেন।
গত আগস্টে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পর এই প্রথম দেশ তিনটির কর্মকর্তারা যৌথভাবে তেহরান সফর করলেন।
কারা অংশ নেন বৈঠকে?
তেহরানের এই বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রতিনিধিদলটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও বৈঠক করে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা প্রকাশের পর এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় বৈঠকটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলল ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই তেহরানের বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে, এই অঞ্চলে একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আলোচনায় তিনি খুব ইতিবাচক পরিবেশ অনুভব করেছেন বলেও জানান।
রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে হবে—বৈঠকে এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলের দখলদারত্বের বিষয়ও আলোচনায়
মোহসেন রেজাই জানান, দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারত্বের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে এসব বিষয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
যুদ্ধ বন্ধে কি কোনো সিদ্ধান্ত হলো?
বৈঠক শেষে যুদ্ধ বন্ধ করা বা নতুন করে সংঘাত ঠেকানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ, বৈঠকে ইতিবাচক পরিবেশের কথা বলা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি বা সমঝোতার ঘোষণা আসেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের এই যৌথ সফর কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে উত্তেজনা কমাতে এই আলোচনা কতটা কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা তৈরি হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।









