ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২। তবে নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির।
গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছেন ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে গভীরভাবে অবগত ওই কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছেন, নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে বিরোধের খবরটি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে।
কেন তৈরি হয়েছে মতবিরোধের খবর?
ওই কর্মকর্তার মতে, প্রতিবেদনটির বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ইঙ্গিত হলো, এটি ইসরাইলের সামরিক সেন্সরের অনুমোদন নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। দেশটিতে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের আগে সামরিক সেন্সরের অনুমোদন নিতে হয়।
কর্মকর্তাটি আরও বলেন, মঙ্গলবারের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জনসাধারণের কাছে তথ্যটি প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনটি মিথ্যা হলে সামরিক সেন্সর এটি প্রকাশের অনুমতি দিত না।
তবে এসব বক্তব্য ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিজস্ব মূল্যায়ন। ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সেনাপ্রধানের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
হামলার বিরোধিতা নয়, সময় নিয়ে আপত্তি?
সিবিএস নিউজকে দেওয়া ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ইরানে নতুন করে হামলার বিরোধী নন। তাঁর আপত্তি মূলত হামলার সময় নিয়ে।
কর্মকর্তাটির ভাষ্য, ইরান থেকে নতুন কোনো হুমকি তৈরি হয়ে থাকলেও তার জবাবে এখনই হামলা চালানো জরুরি কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। ইসরাইলিরা যখন ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন হলো—এত অল্প সময়ের মধ্যে পাল্টা হামলা চালানোর মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
অর্থাৎ, প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরাসরি বিরোধের চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানোর সময় নিয়ে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে।
নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ ধরনের মতবিরোধের খবর অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানে নতুন হামলা কি আসন্ন?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছে। তবে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিংবা অভিযান শিগগিরই শুরু হবে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অস্বীকৃতি এবং সেনাপ্রধানের নীরবতার কারণে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা, সময় এবং এ নিয়ে ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রকৃত অবস্থান জানতে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে নজর রাখতে হবে।









