জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম দলটির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, তাসনিম জারাকে তিনি অনেক সম্মান করেন এবং জোট ঘোষণার পরপরই তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কখন, কী ঘটেছিল, তা তাঁদের কাছে পরিষ্কার করা হয়নি বলে সে সময় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নুসরাত তাবাসসুম। তাঁর বক্তব্যে তাসনিম জারার পদত্যাগ, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা এবং এনসিপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
নুসরাতের মতে, তাসনিম জারা শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের কারণে পদত্যাগ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তাঁর ভাষ্য, এর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাসনিম জারার রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি।
## তাসনিম জারাকে সম্মান করেন নুসরাত তাবাসসুম
সাক্ষাৎকারে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, তিনি তাসনিম জারাকে অনেক সম্মান করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিপিতে দায়িত্ব পালনকালে তাসনিম জারা ছিলেন দলটির সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য, আর তিনি নিজে ছিলেন এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য।
নুসরাত জানান, জোট ঘোষণার পরপরই তাসনিম জারা পদত্যাগ করেন। কিন্তু পদত্যাগের বিষয়ে কখন কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে তাঁদের কাছে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে তখন তিনি রাগান্বিত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য।
তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা এবং সাংগঠনিক পর্যায়ে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে অসন্তোষ—দুটি বিষয়ই উঠে এসেছে। অর্থাৎ, তাসনিম জারার প্রতি সম্মান থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ তাঁদের কাছে পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন।
## জামায়াতের সঙ্গে জোটের আলোচনায় ছিলেন তাসনিম জারা
নুসরাত তাবাসসুমের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনার অংশ ছিলেন তাসনিম জারা। আলোচনা শেষে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান নুসরাত।
তবে তাসনিম জারার পদত্যাগের কারণকে শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার বিপক্ষে নুসরাত। তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার দল ছাড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই একটি ঘটনাকেই পদত্যাগের একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যথাযথ হবে না।
নুসরাত বলেন, তাসনিম জারার রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে পারে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
## ‘শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটের জন্য পদত্যাগ করেছেন, বলা ভুল’
তাসনিম জারার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নুসরাত তাবাসসুম স্পষ্টভাবে বলেন, শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন—এমন দাবি করা ভুল হবে।
নুসরাতের বক্তব্য, এ ঘটনার পেছনে আরও অসংখ্য কারণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে একটি মাত্র রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত না করে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।
তবে সাক্ষাৎকারে তাসনিম জারার পদত্যাগের সম্ভাব্য অন্য কারণগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি নুসরাত। তিনি মূলত বলেছেন, এ বিষয়ে একক কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানো ঠিক হবে না।
এদিকে তাসনিম জারার পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর নিজের বিস্তারিত বক্তব্য বা অন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে পদত্যাগের পেছনের সব কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখানে নেই।
## পদত্যাগের সময় তথ্য পরিষ্কার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন নুসরাত
নুসরাত তাবাসসুমের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাসনিম জারার পদত্যাগের সময়কার তথ্য তাঁদের কাছে পরিষ্কার ছিল না। তিনি বলেন, পদত্যাগ নিয়ে কখন কী ঘটেছিল, তা তাঁদের জানানো হয়নি। এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলীয় সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যে তথ্যের স্বচ্ছতা থাকা নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন নেতার পদত্যাগের মতো ঘটনায় কী ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে জানা সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।
তবে নুসরাতের বক্তব্যে পদত্যাগের বিষয়ে ঠিক কোন তথ্য জানানো হয়নি, কিংবা এ নিয়ে দলের ভেতরে কী ধরনের আলোচনা হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
## নির্বাচনের আগে এনসিপিতে ভাঙন
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে ভাঙন দেখা দেয়। দলটির কয়েকজন পরিচিত ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতা পদত্যাগ করে দল থেকে সরে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও দল থেকে পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় সামান্তা শারমিনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার দল ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা এনসিপি ছাড়েননি।
নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগ দলটির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাকালীন পর্যায়ের নেতাদের কেউ কেউ সরে যাওয়ায় দলটির নেতৃত্ব, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসে।
## পদত্যাগী নেতাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এনসিপি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর থেকেই পদত্যাগ করা নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। সম্প্রতি দলটির কয়েকজন নেতার বক্তব্যেও পদত্যাগীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীনসহ পদত্যাগী নেতারা আবার এনসিপিতে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তাঁদের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত ঘোষণা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নুসরাত তাবাসসুমের বক্তব্যও পদত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে চলমান আলোচনার অংশ। তিনি তাসনিম জারার সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানালেও পদত্যাগের কারণকে শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু দিয়ে ব্যাখ্যা করার বিরোধিতা করেছেন।
## তাসনিম জারার পদত্যাগ নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা
নুসরাত তাবাসসুমের মন্তব্যে তাসনিম জারার পদত্যাগ নিয়ে আলোচনায় নতুন দিক যুক্ত হয়েছে। একদিকে তিনি জানিয়েছেন, পদত্যাগের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। অন্যদিকে, তাসনিম জারার সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নুসরাত পদত্যাগের ঘটনাকে কেবল জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তাঁর মতে, একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিবেচনাও সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তাসনিম জারার পদত্যাগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত বক্তব্য এবং ঘটনার অন্যান্য দিক জানা প্রয়োজন।
## শেষ কথা
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম তাসনিম জারার পদত্যাগ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, তিনি তাসনিম জারাকে সম্মান করেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে পদত্যাগের সময় কী ঘটেছিল, তা তাঁদের কাছে পরিষ্কার করা হয়নি বলে তিনি তখন ক্ষুব্ধ ছিলেন।
নুসরাতের মতে, তাসনিম জারা শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের কারণে পদত্যাগ করেছেন—এমন কথা বলা ঠিক নয়। এর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। এদিকে নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা নেতাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাসনিম জারা ও অন্য পদত্যাগী নেতারা দলে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
**সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।**









