২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি আরবে আটকে রাখা প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। মোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ সিস্টেমে জমা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর বিমা সুবিধার আওতার বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল আটকে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে কেটে রাখা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল।
বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই, কাগজপত্র উপস্থাপন এবং আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
ধর্মমন্ত্রী জানান, আগের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের নজির ছিল না। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হজ অফিসের প্রচেষ্টা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ফলে শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ জমা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এজেন্সিগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা আইবিএএনে থাকা প্রায় ১০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রেখেছে সৌদি সরকার।
তখন বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠনটি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত ওই অর্থ ছাড় করানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।









