GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া।

সোমবার সকালে তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি শ্রমিকদের

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

শ্রমিকেরা বলছেন, শুধু নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না। দ্রুত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে তা ঘোষণা করতে হবে। তাঁদের দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা হোক।

আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের ভাষ্য, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত। এসব ব্যক্তি শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছেন।

বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে সোমবার মোট কতটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন কতটি কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেই সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আগের দিনের আন্দোলনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

এর আগে রোববার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্স এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। যানবাহনেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় কারখানা, মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Social Icons