GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / Uncategorized / পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগ, চার জেলা থেকে লোক আনার দাবি পুলিশের

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগ, চার জেলা থেকে লোক আনার দাবি পুলিশের

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, ঢাকার বাইরে থেকে লোক এনে মিরপুর ও আশুলিয়া এলাকায় জড়ো করা হয়েছিল। শ্রমিকদের আন্দোলনে মিশে তারা উসকানি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়।

এ ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ২৯ জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছেন। বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

ডিবির দাবি, মিরপুরের সাবেক সংসদ-সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস মোল্লার ভাগিনা আলিফ মোল্লা এবং সুজন নামের এক ব্যক্তি এই নেটওয়ার্ক সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণের অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে এক যুবককে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। পরে তার ফেসবুক পেজ ঘেঁটে সাজবুল ইসলাম নামে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সাজবুল ইসলাম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম মনে করেন, সাজবুলের মতো আরও অনেকে শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন।

ডিবি সূত্রে নাশকতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্তের কথা বলা হয়েছে, তাদের কয়েকজন হলেন কামাল গাজী, ওলিউল্লাহ অনিক, আলিফ হোসেন ইমন, নাহিদ হাসান, আরিফ আকন্দ, জায়েদ করিম রিয়াজ, রমজান সরকার, মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান ও মাহিম মোল্লা।
চার জেলা থেকে লোক আনার অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকার বাইরে থেকে লোক এনে মিরপুরের বিভিন্ন মেস ও আশপাশের এলাকায় রাখা হয়েছিল। বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলা থেকে আসা ব্যক্তিরা শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের ধারণা।

ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, রাজধানীতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নাম ও ব্যানারে লোক জড়ো করে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ঢাকার বাইরে থেকে নিষিদ্ধ দলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী এনেছেন আলিফ মোল্লা ও সুজন নামের এক ব্যক্তি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের আরও দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কিছু নেতাকর্মী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করছে। পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে তারা আন্দোলনে প্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কাজে লাগানোর অভিযোগ
শ্রমিকদের বর্তমান মজুরিতে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল শ্রমিকদের আন্দোলনকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।

গত কয়েক দিনে মিরপুরের ১০ ও ১১ নম্বর, কালশী এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং শপিং কমপ্লেক্স ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

সরকার ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ৭ তারিখের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকারের বক্তব্য
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এ জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল শ্রমিকদের কাঁধে বন্দুক রেখে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, সাধারণ শ্রমিকরা ভাঙচুর করেন না, বাইরে থেকে লোক এনে নাশকতা চালানো হচ্ছে। নাশকতায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি পুলিশের সহানুভূতি রয়েছে। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে তাঁর অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত মহল শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বাইরে থেকে কিছু উসকানিদাতাকে মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা রাজধানীতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মিরপুর ও গাজীপুরে পুলিশের অভিযান অব্যাহত
মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছিলেন। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করেছে। তবে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নাশকতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনও শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যৌথ অভিযান চলছে।

অন্যদিকে শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়ার কিছু কারখানার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে বিশৃঙ্খলা করছেন। শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ককটেল সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

Social Icons