বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের (এসএমই) উদ্যোক্তারা যেন আরও বাস্তব সুবিধা পান, সে লক্ষ্য নিয়েই জাইকার সহায়তায় একটি প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব দিক স্পষ্ট করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
নিরাপত্তা, পরিবেশ ও আধুনিক প্রযুক্তির জোর

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য এবং এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বৈঠকে বলা হয়, জাইকার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘জাইকা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প’ খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব শিল্প কাঠামো গঠনের কথাও উঠে আসে।
কী কী কাজ হবে প্রকল্পের আওতায়
প্রকল্পের অংশ হিসেবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়ন করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আধুনিক নির্দেশিকা তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সুবিধা পরিকল্পনা (এসআরএফপি) যাচাই ও সনদ প্রদান এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ পরিকল্পনা (এসআরপি) অনুমোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।
এর বাইরে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যে জটিলতা থাকে, তা কমাতে একক সেবা অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন করার পথ তৈরি হবে—যা উদ্যোক্তাদের কাজের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
এসএমই সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সরবরাহে যুক্ত করা
বৈঠকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বড় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা সরকারের লক্ষ্য। জাইকার সহযোগিতায় শিল্পখাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ
জাইকার প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করবেন। প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পটিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে চলার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যই সামনে।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু উপস্থিত ছিলেন। জাইকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য এক নজরে
আপনারা যারা জাহাজ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা, সরবরাহ বা রিসাইক্লিংয়ে আগ্রহী—এই উদ্যোগে অনুমোদন ব্যবস্থা সহজ হওয়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ার ফলে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও শক্ত হতে পারে।
কীভাবে এসএমই উদ্যোক্তারা সুবিধা পাবে?
প্রশিক্ষণ, নির্দেশিকা, সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং দ্রুত অনুমোদনের মাধ্যমে তাদের কাজ পরিচালনা ও মান পূরণে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
অনলাইন একক সেবা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কী?
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন সহজে এবং দ্রুত সম্পন্ন করা—এটাই মূল উদ্দেশ্য।
পরিবেশ সুরক্ষায় কী জোর দেওয়া হচ্ছে?
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকল্পের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম









