রাজশাহীর পবা উপজেলার কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিলের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরএমপির কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার শিশাপাড়া গ্রামের নাজমুল হোসেন, সরিষাকুণ্ডি গ্রামের রানা ও জনি।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে কর্ণহার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ নিজেদের সাদমান সাকিব নামে এক নেতার সমর্থক বলে পরিচয় দেন।
তল্লাশির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরে বিষয়টি জানান। এরপর ১ সেপ্টেম্বর রাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে সাদমান সাকিব থানার সামনে মশাল মিছিল করেন বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২৮ আগস্ট রাতে আসামিরা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন।
মশাল মিছিলের পর থেকে মো. সাদমান সাকিব আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি নিজেকে ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে জেলা ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, সাদমান সাকিব ছাত্রদলের সাধারণ সদস্যও নন। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতেও ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তারা।
জেলা ছাত্রদলের নেতারা আরও জানান, সাদমান সাকিবের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কোনো দায় ছাত্রদল নেবে না বলেও তারা জানিয়েছেন।
কর্ণহার থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, মধ্যরাতে পুলিশ আইন অনুযায়ী তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় তারা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেন। এ কারণে মামলা করা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আইন অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে।



