GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রথম পাতা / বাজারে স্বস্তি নেই, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বাজারে স্বস্তি নেই, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বাজারে স্বস্তি নেই, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও চাল, তেল, ডিম, মাছ-মাংস ও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।

অসাধু কারবারিরা কৌশল পালটে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কখনো সরবরাহ কমিয়ে, আবার কখনো নানা অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বর্তমানে সুগন্ধি চালের দাম প্রতি কেজি ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যান্য চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে সয়াবিন তেলের দামও লিটারে আরও ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বেশির ভাগ সবজির দাম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কোনো কোনো সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের অজুহাতে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দুই বছরে দুটি সরকার পরিবর্তন হলেও বাজারের চিত্র বদলায়নি।

তার মতে, বর্তমান সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা কৌশল পরিবর্তন করে আবার সক্রিয় হয়েছে। এর ফলে মানুষের আয়ের বড় অংশ খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই চলে যাচ্ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আটা ও ময়দার দাম ৪ থেকে ১২ শতাংশ বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১২ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৮ শতাংশ।

এ ছাড়া শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে ১২.৯০ শতাংশ, তেজপাতার দাম ১০.১৮ শতাংশ এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ১০.১৪ শতাংশ। গরুর মাংসের দাম ৫.১৬ শতাংশ, খাসির মাংস ১৩.৩৩ শতাংশ এবং দেশি মুরগির দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি সুগন্ধি চাল বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকা, যেখানে গত বছর একই সময়ে দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি, আগে যা ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা।

খোলা সয়াবিন তেল বর্তমানে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী মনে করেন, বাজারে সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যদের আগে চিহ্নিত করতে হবে। উৎপাদক বা আমদানিকারক থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর বিভিন্ন পর্যায়ে কারা প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছে, তা খুঁজে বের করার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, শুধু খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি ও জরিমানা করলেই হবে না। শক্তিশালী ব্যবসায়ীরা কী দামে পণ্য আমদানি বা উৎপাদন করছেন এবং কত দামে বিক্রি করছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার অভিযান চলছে।

অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী অনিয়মের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Social Icons