GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / দেশ / আবাসন খাত উন্নয়নে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

আবাসন খাত উন্নয়নে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

আবাসন খাত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণ বিষয়ক চিত্র

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের উপস্থাপন

আবাসন খাত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণ বিষয়ক চিত্র

আবাসন খাত আরও গতিশীল করা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ধারাকে জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৬ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—রিহ্যাব।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

খাতের অবদান ও কর্মসংস্থানের বার্তা

সাক্ষাতে ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত একমাত্র আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে রিহ্যাব গত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) খাতটির অবদানও উল্লেখযোগ্য—প্রায় ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার ও পরিবহনসহ ৩০০টির বেশি লিংকেজ শিল্প এ খাতকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় বলেও জানান।

৬ প্রস্তাবে যেসব উদ্যোগ

রিহ্যাবের ৬ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং ড্যাপ ও নির্মাণ বিধিমালার যুগোপযোগী সংস্কার। ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা ও নগরায়ণ বিবেচনায় এই উদ্যোগের যুক্তি তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। মধ্যবিত্তের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ঋণের বিশেষ স্কিম চালুর কথাও বলা হয়।

প্রস্তাবগুলোর আরেকটি বড় অংশ হলো খরচ ও কর কাঠামো যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা—যার মধ্যে নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহারের দাবি রয়েছে।

ব্যবস্থাপনা সহজ করতে ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন এবং জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার কথাও উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস—পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে—যাতে আবাসন খাতের উন্নয়ন হয় পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত। নগরায়ণ শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক না রেখে দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করতে চায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক (পিপিপি) আবাসন কর্মসূচি কাজে লাগতে পারে। রিহ্যাবের উত্থাপিত যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

কীভাবে বাস্তবায়ন বদল আনতে পারে

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons