GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / কুমিল্লা বিমানবন্দরে রানওয়ে অচল, সিগন্যাল সচল

কুমিল্লা বিমানবন্দরে রানওয়ে অচল, সিগন্যাল সচল

কুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সিগন্যাল অবকাঠামো

কুমিল্লা বিমানবন্দর—দেখলে বোঝার উপায় নেই, একটি আকাশযাত্রার গেটপথ। ৩২ বছর ধরে এখানে কোনো বিমান ওঠানামা করে না। তবু বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে নেই। রানওয়ে অচল থাকলেও ডিভিওআর ও ডিএমই সিগন্যাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিমানের চলাচল অব্যাহত।

রানওয়ে থেমে, তবু আকাশে সিগন্যাল

কুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সিগন্যাল অবকাঠামো

কুমিল্লা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান ওঠানামা না করলেও বিভিন্ন দেশের বিমান ডিভিওআর ও ডিএমই সিগন্যাল ব্যবহার করে পথ খুঁজে নেয়। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি বিমান এই সিগন্যাল ধরে চলে আন্তর্জাতিক রুটে। বিশেষ করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান বেশি ব্যবহার করে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা থেকে আড়াই কোটি টাকার মধ্যে রাজস্ব পায় বলে বন্দরের তথ্য বলছে। ফলে, বিমান না উড়লেও সিগন্যাল-সংশ্লিষ্ট পরিষেবার মাধ্যমে বন্দরটি আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবেই টিকে আছে।

ভুতুড়ে চেহারা, ঝুঁকিপূর্ণ কিছু বাস্তবতা

মাঠে ঢুকলেই এখন ভুতুড়ে পরিবেশ চোখে পড়ে। ৭৭ একর ভূমির ওপর বিমানবন্দরটি ঘিরে আছে চাষ করা ঘাস। ভেতরে রয়েছে একাধিক ছোট পুকুর। টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় নিয়ম না মেনে গড়ে উঠেছে বহু আবাসিক ভবন। রানওয়ের পিচ উঠে পাথরের কণা ছড়িয়ে পড়েছে, আগাছায় ভরে গেছে আশপাশ।

তবে একটি জিনিস স্থির—ডিভিওআর ও ডিএমই সিগন্যাল। সেটি চালু থাকায় আকাশপথে বিদেশি বিমানগুলোর রুট পরিচালনা সহজ হয়।

যেভাবে শুরু, যেভাবে থেমে যায়

বন্দরটির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ সালে কুমিল্লার নেউরা-ঢুলিপাড়ার পাশে বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনী এখানে ফ্লাইট ব্যবহার করত। এরপর বন্দরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়।

১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এখানে নিয়মিত বিমান ওঠানামা চললেও পরে যাত্রী সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৯৪ সালে ফের চালু করা হলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না মেলায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইন্সগুলো। এরপর প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিমান না ওড়লেও বন্দরের কার্যক্রমে গতি থেমে নেই।

পুনরায় চালু করতে কী লাগবে?

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের মত, এটিকে ফের চালু করতে বড় অর্থের প্রয়োজন নেই। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রানওয়ে কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিস এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের জনবল—এই মৌলিক সক্ষমতাগুলো ঠিক করা হলে পুনরায় বিমান ওঠানামা শুরু করা সম্ভব হতে পারে। জমির পরিমাণও যথেষ্ট বলে বলা হয়েছে।

অধিগ্রহণের জটিলতা না থাকায় কাজ এগোনোর সুযোগ আছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে জনবল ২৪ জন থাকলেও কার্যক্রম এখন মূলত সিগন্যাল-ভিত্তিক সেবা কেন্দ্রিক।

প্রবাসীদের জন্য বার্তা

কুমিল্লা বিমানবন্দর নিয়ে প্রবাসী পরিবারের প্রত্যাশা—নিরাপদভাবে বিমান ওঠানামা ফের চালু হলে যাতায়াতে সুবিধা বাড়বে। আবার অন্যদিকে, বন্দরের ভেতরের বাস্তব পরিস্থিতি—রানওয়ে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ, সেবার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে দ্রুত উন্নয়নই এখন সবচেয়ে জরুরি।

প্রশ্নোত্তর

কুমিল্লা বিমানবন্দরে কি ৩২ বছর ধরে বিমান ওঠানামা বন্ধ?
হ্যাঁ, বন্দরের কার্যক্রম থাকলেও রানওয়েতে দীর্ঘদিন ধরে বিমান ওঠেনি।

তাহলে কীভাবে বিদেশি বিমানগুলো এখানে সিগন্যাল ব্যবহার করে?
ডিভিওআর ও ডিএমই সিগন্যাল চালু থাকায় আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিমানের রুট পরিচালনায় সেটি কাজে লাগে।

রানওয়ে চালু করতে কী কী প্রয়োজন হতে পারে?
রানওয়ে কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিস এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের জনবল—এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons