GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / ইডিএফ ঋণের নতুন নীতিমালা, খেলাপি হলে সুবিধা নেই

ইডিএফ ঋণের নতুন নীতিমালা, খেলাপি হলে সুবিধা নেই

ইডিএফ ঋণ নীতিমালা সম্পর্কিত নথি ও ব্যাংকিং নীতি প্রতীকী ছবি

রপ্তানিমুখী উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি সহজ করতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) ঋণ পরিচালনায় নতুন করে শৃঙ্খলা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার মাস্টার সার্কুলার জারির মাধ্যমে সুদহার, মেয়াদ, যোগ্যতা, ঋণের সীমা এবং সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া—সবকিছুই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

ইডিএফ ঋণের সুদহার ও মেয়াদ কত

ইডিএফ ঋণ নীতিমালা সম্পর্কিত নথি ও ব্যাংকিং নীতি প্রতীকী ছবি

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো ডলারে ইডিএফ ঋণ পাবে ৬ মাস মেয়াদে, সুদ হবে SOFR + ০.৫০ শতাংশ। আর এই ঋণ রপ্তানিকারকদের কাছে এডি ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৬ মাস মেয়াদে বিতরণ করতে পারবে SOFR + ১.৫০ শতাংশ হারে।

নিজস্ব উৎস থেকে আমদানি মূল্য পরিশোধের পর, ব্যাংক ইডিএফ পুনঃঅর্থায়ন পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের জন্য অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদ আদায় করা যাবে।

ইডিএফ ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০ দিন। তবে রপ্তানি আয় দেশে আনতে বিলম্বের যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারে।

সময়মতো না পরিশোধ করলে দণ্ডসুদ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইডিএফ ঋণ পরিশোধ না হলে বকেয়া টাকার ওপর প্রচলিত সুদের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে দণ্ডসুদ (ইসলামি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ) আরোপ করা হবে। অর্থাৎ, শুধু ঋণ নিলেই চলবে না—সময় ধরে দায় নিষ্পত্তিও বাধ্যতামূলক থাকছে।

কোন ক্ষেত্রে ইডিএফ সুবিধা মিলবে

নতুন নীতিমালায় ইডিএফ সুবিধা পাওয়া যাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, ইনল্যান্ড ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে—যেসব রপ্তানিকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি মূল্য দেশে আনতে ব্যর্থ হবে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। একইভাবে, যাদের ইডিএফ দায় অন্য ঋণের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে কিংবা যে ব্যাংক সময়মতো ইডিএফ ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে—তারাও নতুন সুবিধা পাবে না।

খাতে খাতে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ

ইডিএফ সুবিধা নিতে হলে খাতভেদে সর্বোচ্চ সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেমন—বিজিএমইএভুক্ত সদস্যদের সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার, বিকেএমই ও ফ্ল্যাক্সাভুক্ত সদস্যদের ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বিবিপিএমইএ ও বিএফইএর সদস্যদের ১ কোটি ডলার। বিএফএফইএর সদস্যরা ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত এবং অন্যান্য খাতের রপ্তানিকারীরা সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত সুবিধা নিতে পারবেন।

বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে বিটিএমএ সদস্যদের সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার, বাংলাদেশ ডাইড ইয়ার্ন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের ১ কোটি ডলার, বিপিএএমইএ ২০ লাখ ডলার, আর বিপিজিএমইএ ও বিসিএমইএর সদস্যদের ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত সুবিধা দেওয়া হবে।

মেয়াদ বাড়াতে কীভাবে আবেদন

সময় বাড়ানোর জন্য ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা তার ঊর্ধ্বে কর্মকর্তার সই থাকতে হবে। পাশাপাশি বিল অব এন্ট্রি এবং সময় বাড়ানোর যৌক্তিক কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই নতুন নীতিমালার লক্ষ্য রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়নকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করা এবং ইডিএফ তহবিল ব্যবহারে শৃঙ্খলা জোরদার করা। বিশেষ করে, সময়মতো দায় নিষ্পত্তি না হলে সুবিধা স্থগিত থাকবে—ফলে ইডিএফ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বার্তাই স্পষ্ট।

প্রশ্নোত্তর

ইডিএফ ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত?
সর্বোচ্চ ১৮০ দিন। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

সময়ে ঋণ পরিশোধ না করলে কী হবে?
বকেয়া অর্থের ওপর প্রচলিত সুদের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে দণ্ডসুদ (ইসলামি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ) আরোপ হবে।

রপ্তানি মূল্য দেশে আনতে দেরি হলে নতুন সুবিধা পাওয়া যাবে?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি মূল্য আনতে ব্যর্থ হলে বা ইডিএফ দায় সমন্বয় করা হলে নতুন করে সুবিধা পাওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons