GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / সড়কে মামলা-রাজস্ব: ডিএমপির ট্রাফিক কঠোর অবস্থান

সড়কে মামলা-রাজস্ব: ডিএমপির ট্রাফিক কঠোর অবস্থান

ডিএমপি ট্রাফিকের এআই ক্যামেরা ও সড়ক নজরদারির প্রতীকী চিত্র

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, পুলিশ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি অন স্পট মামলাও চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে।

এআই ক্যামেরা রাজস্ব আদায়ে ডিএমপি ট্রাফিকের গতি

ডিএমপি ট্রাফিকের এআই ক্যামেরা ও সড়ক নজরদারির প্রতীকী চিত্র

তিনি বলেন, সরকারি তহবিলে ডিএমপি ট্রাফিক প্রতি বছর ১২০ কোটি টাকা জমা দেয়। মাসে অন্তত ১২ কোটি টাকা জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রতি মাসে ৫০ হাজারের বেশি মামলা করা হয় বলেও উল্লেখ করেন আনিছুর রহমান। চলতি মাসেও ৫৪ হাজার মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিকের ডাইভারশন পরিদর্শনে এসে তিনি এসব তথ্য দেন।

‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতিতে ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ

শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সড়কে এক হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আনিছুর রহমান। তিনি জানান, এআই ক্যামেরাগুলো তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় সীমিত বাজেটের মধ্যে দ্রুত বেশি জায়গা কভার করতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে।

এই ক্যামেরাগুলোর মধ্যে থাকা কার্ড সরাসরি ভিডিও রেকর্ড করবে। পরে ভিডিও দেখে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলেও বলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে প্রায় এক হাজার নতুন ক্যামেরা স্থাপনের কথা জানানো হয়। এরই মধ্যে ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে কত ক্যামেরা চালু, কত সিগন্যাল চলছে

বর্তমানে সচল এআই ক্যামেরা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৬টি পয়েন্টে মোট ৩৭টি ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সেমি অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যালের ক্ষেত্রে তিনি জানান, বর্তমানে ১৩টি সিগন্যালে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু আছে। তবে সবসময় তা সচল রাখা সম্ভব হয় না। যান্ত্রিক ত্রুটি, ভারী বৃষ্টি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সিস্টেম বন্ধ রাখতে হয়। একই শহরে মোটরচালিত ও অ-মোটরচালিত যানবাহনের সমন্বয় করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে হয়।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় আরও ৫০টি সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। অবকাঠামো প্রস্তুত হলেই সেগুলো চালু করা যাবে।

হুটার বন্ধ করতে অভিযান, শব্দদূষণকে ‘মারাত্মক’ বলছেন ট্রাফিক পুলিশ

সড়কে শব্দদূষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, যানজট না থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গাড়ি অপ্রয়োজনে হুটার বাজায়। এই অতিরিক্ত শব্দদূষণ ট্রাফিক পুলিশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুধু কান নয়—ফুসফুস, মানসিক চাপ, মাথাব্যথা, পিঠের ব্যথাসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানান।

এই ক্ষতি অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শহরকে বাঁচাতে সবাইকে মিলেই কাজ করতে হবে। শৃঙ্খলা না ফিরলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বাসযোগ্য শহর রেখে যাওয়া যাবে না বলেও তিনি জানান।

অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন এবং অবৈধ লাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

প্রশ্ন: ডিএমপি ট্রাফিক কীভাবে মামলা দিচ্ছে?
উত্তর: এআই ক্যামেরার পাশাপাশি অন স্পট কার্যক্রম চালিয়ে ভিডিও ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মামলা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: নতুন ক্যামেরা বসানোর পদ্ধতি কী?
উত্তর: বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত জায়গা কভার করতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতিতে ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: শব্দদূষণ বিষয়ে কী পদক্ষেপ চলছে?
উত্তর: অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অবৈধ লাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons