GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার

বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলন করছে

ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করলেও, পদত্যাগের আগে তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার। আন্দোলনকারী জেন-জি নেতাদের সামনে সরকারের প্রস্তাব ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো নয়; বরং শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু ‘তেলাপোকারা’—এই তকমা ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীরা দপ্তর বদলের প্রস্তাবে রাজি হননি।

মন্ত্রিসভা নয়, শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদল প্রস্তাব

বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলন করছে

রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে টানা আন্দোলনের মুখে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে। সূত্র বলছে, আন্দোলনের মধ্যেই মোদি সরকারের পক্ষ থেকে জেন-জি নেতাদের এমন একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়—ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে নয়, শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরানো হবে।

আলোচনায় বসার পরও সেই প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি আন্দোলনকারীরা। সিজেপির প্রতিনিধিরা সরাসরি দাবি জানান—শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে। দপ্তর বদল হলে আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে না বলে তাঁদের অবস্থান ছিল কঠোর।

সিজেপি নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠক

মোদি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। তথ্য অনুযায়ী, জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং প্রথমবার সিজেপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ২০ জুলাই। সেবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল ডেকেছিল সিজেপি—এ কর্মসূচি ঘিরেই দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের কথাও উঠে এসেছে।

পরে দফায় দফায় বৈঠকে অচলাবস্থা কাটাতে সরকার পক্ষ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরানোর প্রস্তাব আসে। তবে সিজেপির প্রতিনিধিরা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তাঁদের ভাষায়, পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান মেনে নেওয়া হবে না।

‘প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার’ বলে প্রস্তাব নাকচের যুক্তি

সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, সরকারের প্রতিনিধিরা জানান—কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অপসারণ বা দপ্তর পরিবর্তন করতে হলে সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত। ফলে আলোচনা ঘোরাফেরা করলেও আন্দোলনের মূল শর্তে পরিবর্তন আসেনি। সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বদলে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে রাজি হলে আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ দফার আলোচনা

তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির মধ্যে। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সিজেপি রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীকেও দপ্তর বদলের বিপক্ষে কথা বলতে দেখা গেছে।

মোদি সরকারের প্রস্তাব—মন্ত্রিসভা না ছাড়লেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরে দাঁড়ানো—সেই জায়গাতেই আন্দোলনকারীরা থামেননি। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগই দাবি পূরণ করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, দপ্তর বদল হলে আন্দোলনের গতি একই থাকত কি না।

প্রশ্নোত্তর

মোদি সরকারের প্রস্তাব কী ছিল? ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে নয়, কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরানোর কথা বলা হয়েছিল।

আন্দোলনকারীরা কেন রাজি হননি? তাঁদের দাবি ছিল—পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প মেনে নেওয়া হবে না।

পদত্যাগের পর আন্দোলন কীভাবে এগোয়? পদত্যাগের পর সিজেপি রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons