GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক অনুমোদন নিয়ে বিএসটিআই ব্যাখ্যা

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক অনুমোদন নিয়ে বিএসটিআই ব্যাখ্যা

টুথপেস্টের মান যাচাই ও স্বাধীন পরীক্ষার প্রতীকী ছবি

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবি ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মুখে নতুন করে অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই অনুমোদন দেওয়া হয় এবং গবেষণার প্রেক্ষিতে স্বাধীনভাবে পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুমোদনের আগে কীভাবে মান যাচাই হয়

টুথপেস্টের মান যাচাই ও স্বাধীন পরীক্ষার প্রতীকী ছবি

বিএসটিআই কর্মকর্তারা বলছেন, টুথপেস্টের অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে পণ্যের রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তগুলো দেখা হয়। পাশাপাশি কারখানার মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও যাচাই করা হয়। দেশে টুথপেস্টের জন্য জাতীয় মান রয়েছে—যেখানে অনুমোদনযোগ্য উপাদানের একটি নির্দিষ্ট তালিকা অনুসরণ করতে হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক নীতি প্রসঙ্গ নতুন

অনুমোদনের পর্যায়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসটিআই বলেছে, দেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক সংক্রান্ত নীতিমালার বিষয়টি এখনই পুরোপুরি নতুন। ফলে এই খাতে মানদণ্ড দাঁড় করানোর প্রক্রিয়াও বিবেচনায় আছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

গবেষণা ফলকে কেন্দ্র করে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা

রাজধানীর একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে দেশের বাজারে থাকা টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দাবি তোলপাড় সৃষ্টি করে। বিষয়টি উচ্চ আদালতের দিক থেকেও সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশে এগোয়। ঘটনার দুদিন পর বিএসটিআই মুখ খুলে জানায়, তারা গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষাপদ্ধতি, র-ডাটা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি তথ্য সংগ্রহ করছে।

এছাড়া বিএসটিআই নিজের উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি-বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করবে। এই পুনঃপরীক্ষাকে তারা বলছে “স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা”। পুনরায় যাচাইয়ে কোনো পণ্য জাতীয় মান পূরণে ব্যর্থ হলে বা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অযোগ্য বলা হবে না

বিএসটিআইয়ের ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের ঘোষণা করা হবে না। তাদের যুক্তি হলো—অনুমোদিত উপাদানের তালিকায় সরাসরি উল্লেখ না থাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয় না। তবে তালিকায় নাম না থাকলেই পণ্য সম্পূর্ণ মুক্ত কি না—এই প্রশ্নটাও তারা যাচাইয়ের আওতায় নিয়ে পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতকরণে যেতে চাইছে।

প্রবাসীদের জন্য বার্তা

বাংলাদেশে কেনা টুথপেস্ট ব্যবহার নিয়ে যদি কারও মনে উদ্বেগ থাকে, বিএসটিআই বলছে তারা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি জোরদার করছে। অর্থাৎ আতঙ্ক না ছড়িয়ে পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকানোর পরামর্শের সুরই উঠে এসেছে তাদের বক্তব্যে।

সচরাচর প্রশ্ন

বিএসটিআই কি স্বাধীনভাবে পুনরায় পরীক্ষা করবে?
হ্যাঁ। বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা নিয়ে দেশি-বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

পুনঃপরীক্ষায় ব্যর্থ হলে কী হবে?
জাতীয় মান পূরণে ব্যর্থতা বা অনুমোদনহীন উপাদানের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এখনই কি কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ বলা হবে?
পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএসটিআই।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons