উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়—দৈনন্দিন শৃঙ্খলা ও আইন মানার সংস্কৃতিরও নাম। তাই সমস্যা দেখলেই দায় চাপানো শুধু সরকারের ঘাড়ে ফেলে রাখা যায় না।
সরকারের দায় আছে, কিন্তু একা নয়

রাস্তা ভাঙা, শহর নোংরা, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা, হাসপাতাল অগোছালো—এসব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব স্পষ্ট। রাষ্ট্রের সম্পদ, নীতি, আইন, অবকাঠামো, সেবা ও জবাবদিহির বড় অংশই সরকারকে করতে হয়।
তবু একটি দেশ শুধু সরকার দিয়ে বদলায় না। সমাজ এগোয় মানুষের আচরণে—দায়িত্ববোধ, সামাজিক অভ্যাস, প্রতিদিনের নৈতিকতায়। উন্নয়নের ফল তাই নাগরিকের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকে না।
উন্নত দেশগুলোতে শৃঙ্খলা শেখানো হয়
উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, পরিচ্ছন্নতা বা শৃঙ্খলা শুধু কর্মকর্তার কাজ নয়। স্কুলের শিশু থেকে শুরু করে জনসমাগমের জায়গায় মানুষ নিজেই নিজের জায়গা পরিষ্কার রাখে। এ ধরনের আচরণ গড়ে ওঠে সামাজিক শিক্ষা হিসেবেই।
বাংলাদেশে নাগরিক আচরণের পরীক্ষায় দুর্বলতা
আমাদের শহর, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, হাসপাতাল, স্কুল—সব জায়গায় নাগরিক আচরণের বাস্তব পরীক্ষা চলে। কিন্তু ফল সবসময় আশাপ্রদ নয়। লাইনে দাঁড়াতে অনীহা, পাবলিক স্থানে ময়লা ফেলা, টয়লেট নোংরা করা, প্লাস্টিক ছুড়ে দেওয়া কিংবা ট্রাফিক নিয়ম না মানার প্রবণতা দেখা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, শিশু, বৃদ্ধদের জন্য আসন ছাড়তেও আগ্রহ কমে। আবার টিকিট কেটে ভ্রমণ করাকে অনেকে ভুল কিংবা বোকামি ভেবে বসে। ফলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চাপ আরও বাড়ে।
আইন আছে, সমস্যা আইন মানার সংস্কৃতি
অনেকে বলেন, দেশে আইন নেই। বাস্তবে আইন অনেকই আছে। সমস্যা হলো—আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল। ট্রাফিক সিগন্যাল লাল হলেও রাস্তা ফাঁকা থাকলে পার হয়ে যাওয়া, পদচারী–সেতু থাকলেও নিচ দিয়ে দৌড়ে পার হওয়া, হাসপাতাল-স্কুল-অফিসের নিয়ম অমান্য করা—এসবই সেই সংস্কৃতির দুর্বলতা তুলে ধরে।
সুশাসন শুধু নজরদারি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দিয়ে আসে না। নাগরিক নিজে নিয়ম মানলে সরকারের ব্যয় কমে, সেবা সহজ হয়, এবং পরিবেশও দ্রুত পরিচ্ছন্ন-শৃঙ্খল হয়ে ওঠে।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
বিদেশে থেকেও আমাদের দেশকে প্রভাবিত করতে হয় নিজের আচরণ দিয়ে—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম মেনে চলা, ভদ্রতা ও দায়িত্ববোধের চর্চা। কারণ সুশাসনের সংস্কৃতি দেশের ভেতরের মতো বাইরেও টিকে থাকে মানুষের মনোভাবেই।
প্রশ্ন-উত্তর
উন্নয়ন শুধু বড় প্রকল্পে হয় কি?
না। দৈনন্দিন শৃঙ্খলা ও আইন মানার অভ্যাসেও উন্নয়ন বোঝা যায়।
আইন না থাকার কথা কি ঠিক?
আইন আছে; মূল সমস্যা হলো আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল।
সুশাসন বাড়াতে নাগরিককে কী করতে হবে?
লাইনে দাঁড়ানো, নিয়ম মেনে চলা, জনসম্পদ সংরক্ষণ করা এবং প্রতিবেশী-সহযাত্রীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









