৩০ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায় দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের দৃশ্য—মুখে লাল কাপড় বেঁধে শিক্ষকরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে জানান শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে তাদের সংহতি। কেন্দ্রের উত্তাল পরিস্থিতির ধাক্কা যেন ক্যাম্পাসেও সরাসরি এসে লেগেছিল সেই দিনের কর্মসূচিতে।
সরকারি শোক দিবস প্রত্যাখ্যানের বার্তা

শিক্ষকদের এই কর্মসূচি হয়েছে সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক দিবসকে প্রত্যাখ্যান করে। জুলাইয়ের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাইকে তারা শোক-নির্ভর প্রতীক নয়, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখেছেন। সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে লাল রঙের প্রতীকী অবস্থানই ছিল তাদের স্পষ্ট বার্তা—নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা, নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদ।
শিক্ষার্থীদের পাশে শিক্ষক, ক্যাম্পাসে গতি
ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে র্যালি শুরু করেন। মুখে লাল কাপড় বেঁধে একই কাতারে দাঁড়িয়ে তারা ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করেন এক ধরনের সম্মিলিত প্রতীক। পরে কর্মসূচিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে গিয়ে সংহতি সমাবেশে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও প্রতিবাদ থামেনি
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার মধ্যেও এই কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনপন্থি শিক্ষার্থীরা আশপাশে অবস্থান নেন এবং পুরো আয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় রাখেন। ফলে এক দিনের কর্মসূচি শুধু প্রতীকী ছিল না—ক্যাম্পাসজুড়ে মনোভাবের বাস্তব প্রকাশও হয়ে উঠেছিল।
কেন্দ্রের কর্মসূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংহতি
সেদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা, গুলিবর্ষণ ও অভিযান নিয়ে ক্ষোভ জমছিল। একই দিনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আটক সমন্বয়ককে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আলটিমেটামও উচ্চারিত হয়। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সংগঠনের উদ্যোগে লাল রঙ ধারণ করে পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়। এই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অবস্থানও কেন্দ্রীয় আন্দোলনের সঙ্গে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ আন্দোলন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে দেশের ভেতরের মনোভাবগুলো সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির ওপর।
প্রশ্নোত্তর
১) কেন শিক্ষকরা মুখে লাল কাপড় বেঁধেছিলেন?
সরকার ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক দিবসকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদে প্রতীকী ভাষা হিসেবে।
২) কর্মসূচিটি কোথা থেকে শুরু হয়ে কোথায় শেষ হয়?
শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে সংহতি সমাবেশে গিয়ে দাঁড়ায়।
৩) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল কি না?
কর্মসূচির দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও আশপাশে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে সমন্বয় বজায় রাখেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









