শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার উন্নতির খবর মিলেছে। ডিএসইতে প্রকাশিত তাদের তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) এবং জানুয়ারি-জুন—দুই সময়েই বেশ কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ ধরনের অগ্রগতি শেয়ারের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা এবং তহবিল ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়।
এনএইচএফআইএলের মুনাফা ও নগদ প্রবাহের উন্নতি

এনএইচএফআইএলের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে (পুনর্নির্ধারিত) ১৯ পয়সাই ছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইপিএস বেড়ে হয়েছে ৪৩ পয়সা, যেখানে আগের বছরে ছিল ৪১ পয়সা।
এসময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে ১৪ টাকা ৯৪ পয়সা হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৮৮ পয়সা। কোম্পানিটি বলেছে, গ্রাহকদের আমানত বাড়ায় পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহও বেড়েছে। ফলে এনওসিএফপিএস আগের সময়ের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
২০২৬ সালের ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৪৯ পয়সা; ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর (পুনর্নির্ধারিত) ছিল ১৭ টাকা ৬ পয়সা।
ইউনাইটেড ফাইন্যান্সে ইপিএস ঊর্ধ্বমুখী
ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইপিএস বেড়ে হয়েছে ২৩ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৪ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএসও বেড়েছে ২৭ পয়সা; আগের বছরে ছিল ১৭ পয়সা।
তবে জানুয়ারি-জুন সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৪ টাকা ৩ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ঋণাত্মক ৫১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ১৭ টাকা ১৭ পয়সা, আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ১৭ টাকা ৯০ পয়সা।
ডিবিএইচের মুনাফা বাড়লেও নগদ প্রবাহ কম
ডিবিএইচের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইপিএস বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩০ পয়সা। জানুয়ারি-জুন সময়ে ইপিএসও বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৭৪ পয়সা; আগের বছরে ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা।
এই সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ৬ টাকা ৮৫ পয়সা হয়েছে, আগের বছরে যা ছিল ঋণাত্মক ১৮ টাকা ৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়ে ৫০ টাকা ৭৯ পয়সা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ৪৯ টাকা ৫৫ পয়সা।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, জুনে শেয়ারবাজারের পুনরুদ্ধারের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ অবচয় সংরক্ষণ (ইনভেস্টমেন্ট ইমপেয়ারমেন্ট প্রভিশন) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া আগের সময়ের তুলনায় ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে কম প্রভিশন রাখার প্রয়োজন হওয়ায় মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইপিএস বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, আমানত পোর্টফোলিও কমে যাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে।
বিডি ফাইন্যান্সেও মুনাফার উন্নতি
বিডি ফাইন্যান্সের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়ে হয়েছে ১২ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিত ইপিএস বেড়েছে ২৩ পয়সা—যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ পয়সা।
প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ধরনের ত্রৈমাসিক ফলাফল নজরে রাখা জরুরি, কারণ ইপিএস ও এনএভির ওঠানামা অনেক সময়ই বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি নগদ প্রবাহের দিকেও মনোযোগ দেওয়া দরকার, কারণ সেটিই কোম্পানির দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় সূচক।
প্রশ্ন-উত্তর
এই চার প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে মূল পরিবর্তন কী?
দ্বিতীয় প্রান্তিক এবং জানুয়ারি-জুন সময়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ও নিট সম্পদ মূল্যের উন্নতি দেখা গেছে।
নগদ প্রবাহ সব প্রতিষ্ঠাতেই কি একই রকম?
না। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থাকলেও সেটা আগের বছরের তুলনায় কম খারাপ বা ভিন্ন গতিতে থাকতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য কেন এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ?
মুনাফা ও সম্পদমূল্যের উন্নতি বিনিয়োগের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করে, আর নগদ প্রবাহ কোম্পানির আর্থিক স্থিতি বোঝাতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









