যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিশেষ ফ্লাইটে তারা দুপুরের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দক্ষিণ- মধ্য আমেরিকার ঝুঁকিপথ, বাস-হেঁটে দীর্ঘ যাত্রা

ফেরত আসা ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকেই ব্রাজিল থেকে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ আবার মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ পেরিয়ে প্রবেশ করেন। পুরো পথ ছিল বাসে ও হেঁটে দীর্ঘ দূরত্ব—যাত্রাপথে পার হওয়া দেশের সংখ্যা কারও ক্ষেত্রে কম, কারও ক্ষেত্রে বেশি।
জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ
ফেরত আসা ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক বলেছেন, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হয়েছিল। জনপ্রতি যাত্রা শেষ করতে প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা খরচের কথা জানান তিনি। বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতার মুখে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে—এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতির দিকটি।
ভিসা-প্রক্রিয়ার ফাঁক, কাগজপত্র না মেলানোয় জটিলতা
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কিছুজন ব্রাজিলে যাওয়ার আগে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়েছিলেন বলে জানান। আবার অন্যদের ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট ভিসায় ব্রাজিলে প্রবেশের পর দালালচক্রের সহায়তায় একই ধরনের অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ উঠে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজও করেছেন—তবে বৈধ অভিবাসনের শর্ত পূরণ না হওয়ায় তারা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন।
ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চার্টার্ড ফ্লাইটও বেড়েছে
মার্কিন আইনে আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চার্টার্ড ও বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবহারও বেড়েছে বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানে নামার পর সহায়তা পেলেন ফেরত আসা প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ফেরত আসা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন সহায়তা দেয়।
যাদের স্বপ্ন ভিসা-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির পথে—তাদের জন্য এ ঘটনাটি সতর্কবার্তা। কারণ বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে গেলে অর্থ-সময় দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে, আর শেষে পরিবারকে নিয়েই অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তনের চাপ তৈরি হয়।
প্রবাসীদের জন্য কয়েকটি প্রশ্ন
এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সাধারণত কী ঝুঁকি থাকে?
বৈধ কাগজপত্র ও শর্ত ঠিকমতো পূরণ না হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজর এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ফেরত আসার পর কী সহায়তা মেলে?
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের ব্যবস্থা করা হয়।
তাহলে অনিয়মিত পথে যাওয়ার আগে কী ভাবা উচিত?
যাত্রার খরচ, আইনি জটিলতা এবং প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে আগে থেকেই মাথায় নিতে হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









