কখনো কখনো স্মৃতির জানালাটি হঠাৎই খুলে যায়। সুইডেনে বহু বছর ধরে থাকা রহমান মৃধার লেখায় তেমনই এক টান—শৈশবের বাল্যবন্ধুদের মুখ, নির্ভেজাল হাসি আর হারিয়ে যাওয়া দিনের মতো করে ফিরে আসা কথাগুলো।
ছোটবেলার আড্ডা: মোবাইলহীন সময়

মৃধা স্মরণ করেন, তাদের ছোটবেলায় আধুনিক ক্যাফে ছিল না, ছিল না মুঠোফোনও। আড্ডা জমত খেলার মাঠে, স্কুলের মাঠে, নদীর ঘাটে কিংবা ছাত্রাবাসের বারান্দায়। গল্প চলত সন্ধ্যা নামলেও—বিলাসিতা নয়, ছিল সময় আর আন্তরিকতা।
বিদেশের পথচলায়ও শূন্যতা রয়ে যায়
জীবনের প্রয়োজনে গ্রাম ছেড়ে শহরে, পরে শহর ছেড়ে বিদেশে পাড়ি। তিনি বলেন, নতুন দেশে নানা মানুষ, নানা সংস্কৃতি, অসংখ্য পরিচয় হয়েছে। তবু হৃদয়ের ভেতরে যে শূন্যস্থানটা ঠিকই থেকে যায়, সেখানে বসে শৈশবের বন্ধুরাই। কারণ, শৈশবের বন্ধুত্ব তিনি আত্মার ইতিহাস হিসেবেই বর্ণনা করেন।
ফেসবুক-গ্রুপ কলে ফিরে পাওয়া কণ্ঠ
এরপর আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। মৃধার ভাষায়, হঠাৎ একদিন একটি ফেসবুক পোস্ট যেন দূরত্ব কমিয়ে দেয়। একে একে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পান। ফোন বেজে ওঠে—অপিচেন নয়, বহুদিনের বিস্মৃত এক পরিচিত কণ্ঠে। গ্রুপ কলে সবাই একসঙ্গে কথা বলেন, হাসেন, পুরোনো দিনের গল্প জাগে; মনে হয় সময় থমকে আছে।
তারপর নীরবতা—ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া
তবে সময় থেমে থাকে না। লেখক বলেন, আজ সেই ফোনগুলো আগের মতো আর বাজে না। গ্রুপগুলো নীরব। কেউ সংসারের দায়ে ব্যস্ত, কেউ কর্মচাপে, কেউ অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছে, আবার কারও কণ্ঠই আর ফেরেনি। তবু এই স্মৃতির টানটাই তার কাছে অদৃশ্য সম্পদ—যার মূল্য কোনো মুদ্রায় মাপা যায় না।
প্রবাসে থাকা অনেকের কাছেই এ লেখার আবেগটা খুব চেনা। দূরে থেকেও শৈশবের বন্ধনকে ধরে রাখা মানে শুধু অতীত মনে পড়া নয়—ভবিষ্যতের একাকীত্বের বিপরীতে নিজের ভেতরটা শক্ত রাখা।
প্রশ্নোত্তর
এই লেখার মূল ভাবনা কী? সুইডেনে থেকেও শৈশবের বন্ধুদের স্মৃতি কীভাবে ভেতরে বেঁচে থাকে—সেটাই মূল ভাবনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা কী ছিল? হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে এনে গ্রুপ কলে পুরোনো দিন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।
কী কারণে পরে নীরবতা আসে? ব্যস্ত জীবন, সংসার, কর্মচাপ, অসুস্থতা এবং কারও অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে গ্রুপগুলো ধীরে ধীরে থেমে যায়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: nagorik.prothomalo.com









