উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি দক্ষতা—দুই দিকেই এগোতে হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেডের নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যে দেখা যায়, কোম্পানিটি নিজস্ব তহবিল থেকে পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের একটি নতুন মেশিন এবং কারখানায় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে এগোচ্ছে।
নতুন পাল্প মেশিন কেনার অনুমোদন

পর্ষদ ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের জন্য একটি এফটিসি৫০০ টুইন স্ক্রু প্রেস কেনার অনুমোদন দেয়। ডাবল হেলিক্স ক্রাউডেড পাল্প মেশিন হিসেবে বর্ণিত এই যন্ত্রটি কোম্পানির ব্যবহৃত পুরোনো মেশিনের পরিবর্তে স্থাপন করা হবে।
কোম্পানির তথ্যমতে, যন্ত্র কেনা ও স্থাপন মিলিয়ে আনুমানিক ৭২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। পুরো অর্থই কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।
দক্ষতা বাড়বে যেভাবে
পরিকল্পনাটির মূল লক্ষ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজুড়ে দক্ষতা বাড়ানো। নতুন যন্ত্রটি স্থাপন হলে পাল্পের পানি অপসারণ (ডিওয়াটারিং) সক্ষমতা উন্নত হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফাইবার পুনরুদ্ধার বাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমা এবং সামগ্রিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির বার্তা
পর্ষদের মতে, এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য টেকসই মূল্য সৃষ্টি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কারখানার সক্ষমতা ঠিক রেখে টেকসই আয় ধরে রাখার কৌশল শেয়ারবাজারের আস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।
রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নীতিগত অনুমোদন
একই সভায় কারখানায় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনেরও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির তথ্যমতে, প্রকল্পটির ক্ষমতা ৬১৫ কিলোওয়াট পিক (ডিসি) বা ৫০০ কিলোওয়াট এসি।
এই প্রকল্পে স্থাপন ব্যয়সহ মোট ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এখানেও অর্থায়ন হবে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকেই।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, গ্রিড নির্ভরতা কমবে
কোম্পানি জানিয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি দক্ষতা বাড়বে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে। পরিচালনাগত প্রয়োজন ও অর্থের প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন জরুরি
জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন দক্ষতা—দুটোই সরাসরি খরচ কাঠামো এবং আয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাই কারখানায় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাজারে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিতে পারে।
প্রশ্ন নতুন মেশিনটি কী কাজে লাগবে?
উত্তর পাল্পের পানি অপসারণ সক্ষমতা ও ফাইবার পুনরুদ্ধার বাড়িয়ে উৎপাদন দক্ষতা উন্নত করার লক্ষ্য।
প্রশ্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থ কোথা থেকে আসবে?
উত্তর কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকেই অর্থায়ন করা হবে।
প্রশ্ন প্রকল্পটি কি একবারে হবে?
উত্তর পরিচালনাগত প্রয়োজন ও অর্থের প্রাপ্যতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









