বস্তুনিষ্ঠতার মানদণ্ডই ঠিক করবে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ—রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে এমন প্রত্যয়ই জানালেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে তিনি বললেন, এখন তথ্যের সংকট নয়; বরং তথ্যের অতিপ্রবাহের ভেতর অপতথ্য, বিকৃতি আর পরিকল্পিত বিভ্রান্তি গণতন্ত্র ও সমাজের বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার প্রধান কাজ হচ্ছে তথ্য যাচাই করে সত্যকে উদঘাটন করা এবং বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা। তাঁর মতে, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।
সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়। রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও এটি অন্যতম মাধ্যম। ফলে সাংবাদিকদের দায়িত্বের ক্ষেত্রটা কেবল সংবাদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সত্যের পথে হাঁটাটাই মূল কথা।
পেশাগত নিরাপত্তা ও দক্ষতা
জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলেন। অপতথ্য মোকাবিলায় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যম কমিশন প্রসঙ্গ
প্রশ্নোত্তর পর্বে বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাকস্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ জটিল। প্রত্যেকের রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিক অবস্থান ভিন্ন—তাই মতের ভিন্নতাও থাকবে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
এই ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগের কথা জানান তিনি। ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব—এই তিন উপাদানকে সমন্বিত করেই কমিশন গঠন হবে বলে জানান।
ক্যাম্পাস স্মৃতিচারণ
আলোচনার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণও করেন তথ্যমন্ত্রী। ক্যাম্পাসে কাটানো সময়কে তিনি জীবনের মূল্যবান অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসায় নিজের নস্টালজিয়ার অনুভূতির কথা বলেন।
প্রবাসী পাঠকদের জন্যও এই বক্তব্যের গুরুত্ব আছে। তথ্য যাচাই না হলে ভুল খবর, বিভ্রান্তি ও প্রতারণা—সবই সুযোগ পায়। বস্তুনিষ্ঠ চর্চা দৃঢ় হলে দূর থেকেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
প্রশ্নোত্তর
বস্তুনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব তথ্য যাচাই করে সত্যকে বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা।
অপতথ্য মোকাবিলায় কী গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্য যাচাই ও সত্য উদঘাটনে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গণমাধ্যম কমিশন কেন গঠন করার কথা এসেছে?
ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব—এই ভারসাম্য ধরে রাখতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









