GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। পরিদর্শনের পর তিনি সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান।

১০ কোটি টাকার সেতুতে অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে কাজ করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন।

একপর্যায়ে রাতে সেতুর কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। শুরু থেকেই নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।

তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সেতুর নির্মাণকাজ ২০২২ সালে শুরু

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল উপজেলার বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন’ ও ‘মেসার্স জাকির’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এখন পর্যন্ত সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছু জায়গায় শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় সেখানে বাঁশ দিয়ে স্লাব তৈরি করে ওপরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচা তৈরি করে ঢালাই করা হয়েছে।

প্রশাসনের তদন্তের উদ্যোগ

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর এর দায়ভার নেবে না বলে জানান তিনি।

তিনি বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Social Icons