চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এডিপির অর্থে কেনা বাইসাইকেলে এমপির নামে স্টিকার লাগানো নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনায় বিতরণ কার্যক্রমে বাধা পড়ে। বিতরণের ঠিক আগে স্টিকার খুলে ফেলতে হয়—যাতে সরকারি উপহারের ‘সৌজন্য’ পরিচয় ঘিরে প্রশ্ন না ওঠে।
বিতরণের আগেই চোখে পড়ে স্টিকার

রোববার দুপুরের দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিক্ষা সহায়তা ও ক্রীড়া সামগ্রীর অংশ হিসেবে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। কিন্তু বিতরণের ঠিক আগে সাইকেলগুলোর গায়ে দৃশ্যমান স্টিকার উপস্থিত সবার নজরে আসে।
স্টিকারে লেখা ছিল—‘শিক্ষা সহায়তা উপহার, এডিপির অর্থায়নে, সৌজন্যে মাসুদ পারভেজ, মাননীয় সংসদ সদস্য-৭৯, চুয়াডাঙ্গা-১’। এ বিষয়টি জানাজানি হলে অনুষ্ঠানস্থলেই আলোচনা শুরু হয়।
স্টিকার খুলে ফেলার নির্দেশ
স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি ওঠার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয়দের বাধার মুখে সাইকেলগুলো থেকে স্টিকার খুলে ফেলেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
এমপির বক্তব্য: ‘ঠিক কাজ হয়নি’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘যেটা করা হয়েছে, সেটা ঠিক কাজ হয়নি। এ বিষয়ে আমি জানতাম না। আলমডাঙ্গায় আসার সময় পথের মধ্যে বিষয়টি জানতে পেরেছি। জানার পর আমি সেগুলো সরিয়ে নিতে বলেছি।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি যৌক্তিকভাবে হয়নি—তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এডিপির বরাদ্দে কী দেওয়া হয়
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির চতুর্থ কিস্তির অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল ও ক্রীড়া সামগ্রী এবং অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার বরাদ্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেই এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের আয়োজনে ইউএনও শাহীনুর আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের উপহারে ব্যক্তির নাম-পরিচয়ের ছাপ পড়লে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের বিতর্ক উপকারভোগীদের কাছেও বার্তা পৌঁছায়—উদ্দেশ্যটা যেন সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছায়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
স্টিকার লাগানো নিয়ে বিতর্ক কেন হলো?
এডিপির অর্থে কেনা বাইসাইকেলে সংসদ সদস্যের নামে স্টিকার থাকায় বিষয়টি উপস্থিতদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্টিকার কি শেষ পর্যন্ত খুলে ফেলা হয়?
বিতরণের ঠিক আগে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের বাধার মুখে সাইকেল থেকে স্টিকার খুলে ফেলা হয়।
এডিপির এই কর্মসূচিতে কী ছিল?
শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল-ক্রীড়া সামগ্রী এবং অসহায় প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









