GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ৭৪-এ দুর্ভিক্ষের পর কৃষিতে বিপ্লব জিয়ার

৭৪-এ দুর্ভিক্ষের পর কৃষিতে বিপ্লব জিয়ার

যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ প্রদর্শনী ও চারা বিতরণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে কৃষি প্রসঙ্গে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার।

৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের শিক্ষা কাজে লাগানোর আহ্বান

যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ প্রদর্শনী ও চারা বিতরণ

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতার পর দেশকে টিকিয়ে রাখতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করা হয়। তিনি জানান, এরপরই কৃষিকে ঘিরে গবেষণা ও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ বাড়াতে হয়।

জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কৃষি বিপ্লবের পথচলা

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণা জোরদার এবং উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার মনে করেন, তাঁর উদ্যোগেই দেশে কৃষি বিপ্লবের সূচনা হয়।

আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিই লক্ষ্য

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দেশের কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ধান ও চাল রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। আর সেই কারণেই প্রান্তিক কৃষকদের জন্য উন্নত পদ্ধতি ও উৎপাদন সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ভবিষ্যতে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে ধান ও চাল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের।

নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে কৃষককন্যা-চিন্তার কথা

নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তাঁর বাবা কৃষিকাজ করে লেখাপড়া করিয়ে তাঁকে ব্যারিস্টার বানিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকে তিনি চান, এই এলাকার কোনো কৃষকের সন্তান ভবিষ্যতে স্পিকার কিংবা রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও পৌঁছাক।

অনুষ্ঠানে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নেত্রকোনার উপপরিচালক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়া এবং কেবলপুর গ্রামের কৃষক মো. কবির হোসেন।

শেষে লেংগুরা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রায় ৩০০টি নিম, মেহগনি ও পেয়ারা গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নোত্তর

অনুষ্ঠানটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
লেংগুরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে, কলমাকান্দা উপজেলায়।

কী বিতরণ করা হয়?
যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সরকারের লক্ষ্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়?
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons