আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদ মোহাম্মদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়—এ ঘটনায় তদন্তাধীন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপ যুক্ত হলো।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ, কারাগারে পাঠানো

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকেই কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে তাদের দুইজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
যেসব ঘটনায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় বিএনপি কর্মী বেল্লাল হোসেনকে গুম করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামের বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এসব ঘটনার সময় র্যাব-১১-এর কমান্ডিং অফিসার বা সিও ছিলেন লে. কর্নেল তারেক সাঈদ এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) ছিলেন জিয়াউল আহসান।
তদন্ত চলমান—প্রসিকিউশনের দাবি
আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। এই প্রেক্ষিতেই তাদের গ্রেফতার দেখানো করতে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরেক আবেদনও মঞ্জুর, জাকির হোসেন প্রসঙ্গ
আদালত ঢাকার আদাবর এলাকা থেকে জাকির হোসেন নামের এক ছাত্রকে গুম করার অভিযোগে র্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোমেনকে আগামী ২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশও দিয়েছে। জাকিরকে গুমের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য প্রসিকিউশন ৬ আগস্ট আবেদন করলে সোমবার শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ আল মোমেন এরই মধ্যে র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের অভিযোগের একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। জিয়াউল আহসানও গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের বিচার কার্যক্রম গুরুত্ব পায় একটি সহজ কারণে—দীর্ঘদিন ধরে থাকা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়, যা ন্যায়বিচার প্রত্যাশীদের আস্থা তৈরিতে সহায়তা করে।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর
গ্রেফতার দেখানো মানে কী?
বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশে কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ কার্যকর হয়, ফলে মামলা পরিচালনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।
আদালতের আদেশের পেছনে কারা আবেদন করেছিল?
প্রসিকিউশন আদালতে আবেদন করেছিল; শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়।
মামলাগুলোর অবস্থা কী?
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী তদন্ত চলমান।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









