বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ দেখা যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বাণিজ্য-ইনভেস্টমেন্টে জোর, সঙ্গে জনশক্তির দক্ষতা

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এসএবিসিসিআই-এর সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদারে চেম্বারটির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি খাতেও কাজ বাড়ানোর ইচ্ছার কথা আসে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধিদলের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ-সৌদি দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
প্রদর্শনী, বিনিয়োগ ফোরাম—সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া
বৈঠকে এসএবিসিসিআই জানায়, তারা বাণিজ্য উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন এবং সৌদি আরবে ‘বাংলাদেশ-সৌদি বিনিয়োগ ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সহজ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে। ফলে চেম্বারের পরিকল্পনা ঘিরে দুই পক্ষের সমন্বয় প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে—এমন প্রত্যাশাই উঠে আসে আলোচনায়।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিল্পপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ
আলোচনায় আরেকটি দিক ছিল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়ানো। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প, হস্তশিল্প এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের সৌদি আরবের বাজারে কার্যকরভাবে প্রচার ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
চেম্বারের প্রতিনিধিরাও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকের পর এসএবিসিসিআই জানায়, উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার লক্ষ্য তাদের।
প্রবাসী ব্যবসায়ীদের জন্য বার্তা কী?
এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আর যারা সৌদি আরবে কাজের সঙ্গে যুক্ত—তাদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের দিকটাও বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ-সৌদি দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
১) কী ধরনের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে?
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
২) বাণিজ্য উন্নয়নে কী উদ্যোগ আছে?
আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন, বাণিজ্য উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
৩) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কী?
সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সহজ করতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম









