বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী ঐক্য-দর্শন হিসেবে তুলে ধরলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা নৃ-গোষ্ঠীর পরিচয়ে বিভাজন নয়—নাগরিক পরিচয়ের জায়গা থেকেই সবাইকে একই রাষ্ট্রচেতনায় বেঁধে রাখতে হবে।
প্রেস ক্লাবে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বহু দলের দর্শনে পরিচয়ের পার্থক্য
স্বাধীনতার পর দেশের রাজনীতিতে বহু রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দলগুলোর দর্শন বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্র ও নাগরিক পরিচয় নিয়ে মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়। তিনি জোর দেন—দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় ও মর্যাদাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন গড়তে হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতি নয়, সমান অধিকার
তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতি আর গণতন্ত্রের সংস্কৃতি এক নয়। একটি রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন।
পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের অভিজ্ঞতা টানলেন
বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহসহ এসব অভিজ্ঞতা দেখায়—দেশের বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
জিয়াউর রহমানের পর্ব: নাগরিক পরিচয়ে জোর
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মুসলিম-অমুসলিম, বাঙালি-অবাঙালি পরিচয়ঘিরে রক্তাক্ত ইতিহাস ও বিভাজনের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা রাজনৈতিকভাবে কাঠামোবদ্ধ হয়। ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের বদলে নাগরিক পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি করার মধ্যেই তিনি নতুন দর্শনের সূচনা দেখেন।
বহুদলীয় রাজনীতি ও ধারাবাহিক নেতৃত্ব
১৯৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ওই সংকটে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন ধারার সূচনা হয়। তার ভাষায়, একদলীয় শাসনের বিপরীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং একক পরিচয়ের বিপরীতে বহু পরিচয়, বহু মত ও বহু সংস্কৃতির সহাবস্থানই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল জায়গা।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই রাজনৈতিক দর্শনকে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন। আজ সেই ধারাবাহিকতার নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন গভীরভাবে বুঝতে পারলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অন্তর্নিহিত শক্তিও আরও স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









