রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপির পক্ষে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে জোরেশোরে।
আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন দিকেই যাচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়— ফলে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় থাকা কোনো নামই কি এগোবে, নাকি একেবারে অপ্রত্যাশিত কাউকে বেছে নেওয়া হবে, সেটাই দেখার।
দুটি ফরম, উৎস আলাদা—ইঙ্গিত কোথায়

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বিএনপির পক্ষে একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। অন্যটি সংগ্রহ করেছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।
কিন্তু এই দুটি ফরম কার নামে জমা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এখানেই তৈরি হয়েছে মূল রাজনৈতিক কৌতূহল— প্রস্তুতি কি কেবল আনুষ্ঠানিক, নাকি এর আড়ালে শেষ মুহূর্তের কৌশল কাজ করছে।
যাদের নাম ঘুরছে—ফখরুল, মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন
গত কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক সমীকরণ ধরে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম বারবার উঠে এসেছে। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান এবং স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এছাড়া প্রকাশ্য আলোচনায় এর আগে আরও কিছু নাম এসেছে— যা প্রার্থিতা নিয়ে সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রকে আরও বড় করেছে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্য—সিদ্ধান্ত হবে দলের ফোরামে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বারবার বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন তা দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। গত জুলাইয়ের আলোচনায় বিএনপি বৈঠক করবে, স্থায়ী কমিটির সভা হবে, এরপরই সিদ্ধান্ত জানা যাবে— এমন কথাই উঠে এসেছে বারবার। ফলে এখনো চূড়ান্ত নাম ঘোষণার পর্যায়ে যায়নি আলোচনা।
বঙ্গভবনে পাঠালে কী বদল—রাজনৈতিক হিসাব
রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরেই বেশি আলোচনা। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ ভূমিকা এবং সরকার ও দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীর কাতারে রাখছে— এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ তিনি একই সঙ্গে দলের মহাসচিব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক ভারসাম্যে এই পরিবর্তন কীভাবে প্রতিফলিত হয়— সেটাই এখন পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রবাসীদের জন্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গটা আসলে দূরের বিষয় নয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বদলালে প্রশাসনিক গতি, নীতিগত যোগাযোগ এবং সামগ্রিক স্থিতি— সবকিছুর উপরই তার প্রভাব পড়ে। তাই বঙ্গভবনের সম্ভাব্য বাসিন্দা কারা হচ্ছেন, তা জানার আগ্রহ স্বাভাবিক।
প্রশ্ন ১: বিএনপি থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম কার নামে জমা দেওয়া হবে?
এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
প্রশ্ন ২: সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কার নাম বেশি আলোচনায়?
আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অধ্যাপক ড. আব্দুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রশ্ন ৩: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে?
দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠক ও স্থায়ী কমিটির সভার পর সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









