GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / সক্ষম রাষ্ট্র ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি গড়ার বার্তা

সক্ষম রাষ্ট্র ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি গড়ার বার্তা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সক্ষম রাষ্ট্র গঠনের বার্তা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন আর কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কের গল্প নয়। বিশ্বব্যবস্থা বদলাচ্ছে—কোভিড-পরবর্তী অর্থনীতির ভঙ্গুরতা, জ্বালানি-খাদ্যের টানাপোড়েন, আর বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাণিজ্য-প্রযুক্তি-নিরাপত্তাকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। এই বাস্তবতায় “সক্ষম রাষ্ট্র” গড়ার প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব বদলালে নীতিও বদলায়

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সক্ষম রাষ্ট্র গঠনের বার্তা

গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বিন্যাস স্পষ্ট। অর্থনীতি আর ভূরাজনীতি একে অন্যকে আগের তুলনায় বেশি প্রভাবিত করছে। ফলে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চিন্তার ধরনও নতুন করে সাজাতে হচ্ছে—শুধু অতীতের অভিজ্ঞতা ধরে এগোলেই হবে না, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ধরতে হবে।

পররাষ্ট্রনীতি এখন উন্নয়ন ও সক্ষমতার হাতিয়ার

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও বাস্তব। উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিবাসন ও আঞ্চলিক সংযোগ—সবকিছুই এখন বেশি কৌশলগত। তাই পররাষ্ট্রনীতি আর “রাজনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা”র মধ্যে সীমিত থাকছে না। এটি অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সরবরাহশৃঙ্খলে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান শক্ত করার উপায়।

নিজের ভেতরের বদল বড় পরীক্ষার সূত্র

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরেও পরিবর্তন চলছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি নতুন পর্যায়ে যাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো লক্ষ্য রাষ্ট্রের সামনে নতুন নীতিগত প্রশ্ন তুলে ধরছে। এ প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতিতে নয়, পররাষ্ট্রনীতিতেও খোঁজার কথা উঠে আসে।

কারও দিকে ঝুঁকে নয়, একাধিক অংশীদারে ভারসাম্য

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের “গভীরতা”কেই শেষ কথা ধরে না নেওয়া। লক্ষ্য হওয়া দরকার এমন সম্পর্ক তৈরি করা, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে সহায়তা করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাও অক্ষুণ্ন রাখবে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাফল্য আজ শুধু যৌথ বিবৃতি বা উচ্চপর্যায়ের সফরে মাপা যাচ্ছে না; মাপা হচ্ছে—সম্পর্ক কতটা অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্ত করতে পারছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বার্তাটা কেন জরুরি

প্রবাসী পরিবারগুলোর কাছে এই আলোচনা খুবই স্পর্শকাতর। কারণ আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিয়োগের গতি, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র, এমনকি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও দেশের নীতির দিকনির্দেশের ওপর নির্ভর করে। পররাষ্ট্রনীতি যদি সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তাহলে দূর থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সে নির্ভরশীলতা কমানোর পথও ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়।

প্রশ্ন-উত্তর

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
একক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো নয়; পরিবর্তিত পরিবেশে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও নতুন সুযোগ বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

সম্পর্কের সাফল্য কী দিয়ে বিচার হওয়া উচিত?
কেবল কূটনৈতিক অর্জনে নয়—অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার সক্ষমতায়।

কেন একাধিক অংশীদারের ভারসাম্য দরকার?
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons