গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহে দীর্ঘদিনের বিঘ্নে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন থমকে গিয়ে আর্থিক চাপ বেড়েছে—এ অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফসহ তিন মাস সময় দেওয়ার অনুরোধ জানাল চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
জরিমানা ছাড়াই ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনার প্রস্তাব

শনিবার (৮ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি এই দাবি জানান। চিঠিতে বলা হয়, শিল্পোদ্যোক্তাদের অপ্রত্যাশিত ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে কার্যকর সময় দরকার। তাই কোনো কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করাসহ আগামী ছয় মাস জরিমানা ছাড়াই বিল পরিশোধের সুযোগ দিতে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরবরাহ বিঘ্নে উৎপাদন, রপ্তানি ও বিক্রি ক্ষতির মুখে
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদনমুখী শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। অনেক কারখানা সরবরাহ সংকটের কারণে বন্ধও হয়ে গেছে, আবার কোথাও অলিখিত লে-অফে কাজ কমে গেছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন খরচ, রপ্তানি আয় ও বিক্রিতে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বাজার ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে চিঠিতে তুলে ধরা হয়।
দিনের কাজ চালাতে হিমশিম, বেতন-ভাতা-ঋণের সুদও
আরও বলা হয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কমে গেলে দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং এতে বড় আর্থিক ক্ষতি হয়। উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তাদের খরচ উঠে আসছে না। ফলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিল্পোৎপাদন টিকিয়ে রাখতে জরুরি সহযোগিতা চাওয়া
চট্টগ্রাম চেম্বার মনে করে, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিল্পোদ্যোক্তাদের সহায়তা দরকার। তাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না রাখার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি প্রচলিত ‘মাস টু মাস’ বিল পরিশোধের নিয়ম সাময়িকভাবে রহিত করে জরিমানা ছাড়াই ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে বলা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অর্থ কী
প্রবাসী আয় নির্ভর পরিবারগুলোর কাছেও শিল্প টিকে থাকা মানে কর্মসংস্থান টানা, পণ্য ও সেবার স্থিতি। শিল্পকারখানা উৎপাদন ধরে রাখতে না পারলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, শ্রমিক-পরিবারের দৈনন্দিন অর্থনীতিতেও চাপ পড়ে। তাই গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফ ও সময়—এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবে এ চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন-উত্তর
১) চট্টগ্রাম চেম্বার ঠিক কী চাইলো?
গ্যাস-বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফসহ বিল পরিশোধে তিন মাস সময় দিতে অনুরোধ।
২) কেন এই অনুরোধ?
গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ বিঘ্নে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
৩) কী ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?
কারখানার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









