GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ ১২ শতাংশ বেড়েছে

সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ ১২ শতাংশ বেড়েছে

ব্যাংক শাখায় সিএমএসএমই ঋণ সংক্রান্ত নথি

সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ ফের চাঙা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই খাতে ঋণ বিতরণ ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে; অর্থাৎ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং অর্থপ্রবাহের গতি বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে ঋণ আদায় কমায় সতর্কতার বিষয়টিও জোরালো হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ শতাংশ

ব্যাংক শাখায় সিএমএসএমই ঋণ সংক্রান্ত নথি

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিএমএসএমই ঋণসংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট ৭০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল ৬২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

এই গতি শুধু আগের বছরের সঙ্গে তুলনাতেই নয়; চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়ও বড় ধরনের উন্নতি এসেছে। প্রথম প্রান্তিকে বিতরণ হয়েছিল ৪৮ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। সেখানে থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই প্রধান জোগান

খাতভিত্তিক তথ্য বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিতরণ করা মোট ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে। তারা দিয়েছে ৫৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণের ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংক ২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংক এক হাজার ৮২৫ কোটি টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২ হাজার ৮৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

স্থিত ঋণ বাড়ছে, কিন্তু আদায় পিছিয়ে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে সিএমএসএমই খাতে মোট স্থিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এক বছর আগে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। ফলে বছরে স্থিত ঋণ বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তবে ঋণ বিতরণ বাড়লেও আদায়ের চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিএমএসএমই খাত থেকে ঋণ আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৫৭ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে আদায় কমেছে এক হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা।

এর আগের চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও আদায়ে পতন দেখা যায়। ওই সময়ে আদায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৩৫ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকায় নেমে আসে।

প্রবাসী উদ্যোক্তার স্বার্থে গুরুত্ব কোথায়

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেরই ছোট ব্যবসা, ট্রেড লাইনের মাধ্যমে উৎপাদন বা সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা অভ্যাস আছে। এই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়লে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ঋণ আদায় কমার ধারাবাহিকতা বোঝায়—ব্যবসার নগদ প্রবাহ বা পরিশোধ সক্ষমতায় চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ঋণ নেওয়া ও ব্যবসা চালানোর ঝুঁকি–সুযোগ দুদিকেই হিসাব করে এগোনো জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, সিএমএসএমই খাতে মোট স্থিত ঋণের ৭৩ দশমিক ৩৮ শতাংশই এখন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। অর্থাৎ অর্থায়নের বড় অংশের নিয়ন্ত্রক ভূমিকা তাদের দিকেই।

তাহলে কী বার্তা দিচ্ছে এই তথ্য

একদিকে নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ছে—যা অর্থনীতির ক্ষুদ্র অংশে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। অন্যদিকে আদায় কমা মানে ব্যাংক–উদ্যোক্তা—দুই পক্ষেরই তদারকি ও পরিকল্পনায় আরও সতর্কতা দরকার।

প্রশ্নোত্তর

সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ কত বেড়েছে?
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

একই সময়ে ঋণ আদায় কেমন ছিল?
আদায় কমেছে এক হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ঋণ দেয় কারা?
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বড় অংশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons