‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই পররাষ্ট্র কৌশলের মূল

আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) বৈঠকের ফাঁকে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই দেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে। এসব বার্তা বৈঠকগুলোর আলোচনার কেন্দ্রেই ছিল।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে অগ্রাধিকার
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং সংযোগ (কানেক্টিভিটি)—কীভাবে এসব ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি আনা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুও উঠে আসে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই থাকবে। এতে দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট দিকগুলো সামনে রেখে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের কথা বলা হয়।
চীনের সঙ্গে ‘কমিউনিটি’ গড়ার অঙ্গীকার
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ আলোচনায় জোর দেওয়া হয় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করার পথে। বহুমুখী পরিবহন করিডোর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সমন্বয় সম্প্রসারণও আলোচনার অংশ ছিল।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন ও জ্বালানি সহযোগিতা
আরেকটি বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।
এর পাশাপাশি দুই পক্ষ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে একমত হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা ও অংশীদারিত্বভিত্তিক পরিকল্পনার প্রেক্ষিতেই এ সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার আলোচনা
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ দেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে কথা হয়।
ড. খলিলুর রহমান মার্কো রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। দুই পক্ষের আলোচনায় বাণিজ্য-সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতা ধরে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি
এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রশ্নোত্তর
ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে কোন নীতির কথা বলেছেন?
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই দেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিচালিত হবে।
কোন কোন খাতে আলোচনা হয়েছে?
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং সংযোগ (কানেক্টিভিটি)সহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়?
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয় এবং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









