ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র করার আলোচনা যে দিকে যাচ্ছে, সেটি শুধু পরীক্ষার কৌশল নয়—জাতীয় শিক্ষার ভেতর সমতা ও একাডেমিক মানদণ্ডের প্রশ্ন হয়ে উঠছে।
ভর্তি পরীক্ষা—প্রশ্নের চেয়ে মূল পরীক্ষা কী

অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের পাঠ্যবই মুখস্থ যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, ধারণাগত দক্ষতা, ভাষার সক্ষমতা এবং উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকার যোগ্যতা দেখা—এটাই মূল লক্ষ্য। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘কোন বোর্ডে পড়েছে’ থেকে না উঠে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে কি না’—এই মানদণ্ডে।
অভিন্ন পাঠ্যক্রম, তবু ভিন্ন প্রশ্ন—বিরোধ কোথায়
একই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পাঠ্যক্রম পড়া, একই শিক্ষক-ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং একই ডিগ্রি অর্জন—এসব যদি একই থাকে, তাহলে ভর্তি পরীক্ষায় ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে যুক্তিসংগত হয়, সেই দ্বন্দ্বটাই তিনি সামনে আনেন। তাঁর ভাষায়, এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যতিক্রম নয়; উচ্চশিক্ষায় একক একাডেমিক মানদণ্ডের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইংরেজি মাধ্যমকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বার্তা
আলোচনার বিপক্ষে অবস্থান দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে আলাদা সুবিধা তৈরি হলে অভিভাবকরা ধীরে ধীরে সেদিকেই ঝুঁকবেন। ফলে বাজারও সম্প্রসারিত হতে পারে—নিজের প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকেও সেটি লাভজনক হতে পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বড়—এ যুক্তিতে তিনি বলেন, কোনো নীতি যদি ব্যবসায়িক দিক থেকে সুবিধাজনক হলেও শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে, সেটি নৈতিকভাবেই সমর্থন করা ঠিক নয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও সমান প্রতিযোগিতার নীতি
তিনি আশঙ্কা করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা এবং জাতীয় শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতার নীতিও দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে—যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মানদণ্ড এক থাকলেও মূল্যায়নের পথ আলাদা হয়ে যায়।
প্রবাসী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভাবনার জায়গা
ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা সামনে থাকলে, দেশের ভিন্ন শিক্ষাপথের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুযোগ ঠিক কোন নীতিতে নির্ধারিত হচ্ছে—সেটি প্রবাসী অভিভাবকদের কাছেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। কারণ অনেক পরিবারের লক্ষ্য একটাই: সন্তান যেন ন্যায্য ও অভিন্ন মানদণ্ডে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের সম্ভাবনা প্রমাণ করতে পারে।
সংক্ষেপে: কী বার্তা দাঁড়ায়
ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় পৃথক প্রশ্নপত্রের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছে একটি বার্তা—একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় যদি মূল্যায়নে বিভাজন আনে, সেটি ধীরে ধীরে জাতীয় শিক্ষানীতি ও প্রতিযোগিতার ধারণাতেই প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
১) কেন পৃথক প্রশ্নপত্র নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছে?
কারণ ভর্তি পরীক্ষায় উদ্দেশ্যকে ‘বোর্ডভিত্তিক’ না রেখে ‘যোগ্যতা যাচাই’ হিসেবে দেখা হয়। প্রশ্নপত্র ভিন্ন হলে সেই একক মানদণ্ড প্রশ্নের মুখে পড়ে।
২) এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে?
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য বাড়তি সুবিধার বার্তা তৈরি হলে সমান প্রতিযোগিতা দুর্বল হতে পারে।
৩) নীতিগতভাবে আলোচনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ঢাবি দেশের শিক্ষা-দর্শন ও উচ্চশিক্ষার মানদণ্ডে প্রভাব ফেলে; তাই ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তন জাতীয় পর্যায়ে প্রশ্ন তোলে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









