ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবি তুলে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
২৪ ঘণ্টা প্রবেশ-প্রস্থান নিশ্চিতের দাবি

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ছাত্রী হলের প্রচলিত সান্ধ্য আইন বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের দাবি—সময়সীমাভিত্তিক বিধিনিষেধের বদলে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক সার্বক্ষণিক প্রবেশ ও বহির্গমন নিশ্চিত করা দরকার।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম—এমন নানা কাজে রাতে কিংবা যে কোনো সময়ে হল থেকে বের হওয়া বা হলে প্রবেশ করা প্রয়োজন হতে পারে। ফলে সময়সীমা বাড়ানোর যুক্তি না রেখে ২৪ ঘণ্টার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
পরিচয়পত্রে প্রবেশ ও রাত্রিযাপনের সুযোগ
দ্বিতীয় দাবিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীদের বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র দেখানোর মাধ্যমে যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, নিয়ম মেনে চলা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমতির প্রক্রিয়াটি বাস্তবে কার্যকর ও সহজ হওয়া উচিত।
পরিবারের নারী সদস্যদের হল পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি
তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, যেকোনো ছাত্রী পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, এতে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানিও কমে আসে।
উপাচার্যের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি চালু আছে। এগুলোকে তারা বৈষম্যমূলক ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করছেন। এসব বিষয় নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৈঠকের পর নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
স্মারকলিপির মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে কেবল দাবিই নয়—বর্তমান নিয়মগুলো কেন বদলানো প্রয়োজন, সেটিও তুলে ধরার কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
প্রশ্ন-উত্তর
‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ প্ল্যাটফর্মটি কী চায়? ছাত্রী হলগুলোতে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ-প্রস্থান, পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ এবং পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি চায়।
স্মারকলিপির প্রধান লক্ষ্য কী? সময়সীমাভিত্তিক বিধিনিষেধের বদলে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা চালুর জন্য উপাচার্যের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো।
কোন বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সম অধিকারের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে দাবিগুলো সাজানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









