GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / ঢাবিতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ঢাবিতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতীকী চিত্র

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রবাসীসহ দেশের শিক্ষাঙ্গনের জন্য এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন জোরালো হওয়ার বার্তা মিলছে।

ঢাবি যেভাবে উদ্বেগের কথা বলল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতীকী চিত্র

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের তৎপরতার বিষয়টি নজরে এসেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাবি।

রাষ্ট্রের স্বার্থ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি

ঢাবি বলেছে, এ ধরনের তৎপরতা দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি। বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা—এমনভাবেই বিষয়টি দেখছে প্রশাসন।

ঢাবির বিধিমতে শাস্তির বিধান

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্ট্যাটিউটস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশন চ্যাপ্টারের বিধি—এসব অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিধি ১৩(২) অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির প্রতিশ্রুতি

ঢাবি কর্তৃপক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতি তাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত থাকবে। পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘনকারী কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।

এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি-স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাবি।

প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসে থাকা অনেক পরিবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর সরাসরি অনুভব করেন—শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা এবং উচ্চশিক্ষার পরিবেশ টেকসই থাকাই বড় কথা। আইনের পথে হাঁটার এই বার্তা শিক্ষাঙ্গনে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন

কাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা? রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেছে ঢাবি।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে? বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসর, অপসারণ বা বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে।

কী বার্তা দিচ্ছে ঢাবি? আইন ও বিচারিক সিদ্ধান্তের পরিপন্থী তৎপরতায় ‘শূন্য সহনশীলতা’ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons