জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের পক্ষে গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ আইনি সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চারটি ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
প্রক্টরের কাছে চার ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা। অভিযোগে তারা বলেন, জাবির তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগে যেভাবে তৎপরতার বর্ণনা
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ‘চ্যানেল ১৪’ নামের একটি ভুঁইফোঁড় পোর্টালে ক্যাম্পাস প্রতিনিধি পরিচয়ে কাজ করেন। তাদের দাবি, এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে যে কোনো ধরনের তৎপরতা আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ।
বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা চাওয়ার কারণ
চার ছাত্রসংগঠনের নেতারা লিখিতভাবে বলেন, শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে এবং প্রচলিত ফৌজদারি আইনের প্রত্যক্ষ লঙ্ঘনের পাশাপাশি আইনগত জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই তারা সুষ্ঠু তদন্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
প্রক্টরের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, তারা অভিযোগপত্রটি পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যক্রম শুরুর দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাটি জাবির শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তদন্ত ঠিকমতো হলে একদিকে যেমন দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী-সমাজে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন প্রাসঙ্গিক
বহিষ্কার বা আইনি পদক্ষেপের মতো সিদ্ধান্ত ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়—এটাই এখন সবার নজরে।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর
অভিযোগ কারা দাখিল করেছেন? জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা প্রক্টরের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
প্রক্টর কী বলেছেন? অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা জানিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
চাওয়া হয়েছে কী? তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং আইনি সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









