পান্থকুঞ্জে ‘আরবান কমন্স’ রক্ষার দাবি

রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) কনফারেন্স হলে ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক: ফাইট ফর দ্য আরবান কমন্স ইন ঢাকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পকে ঘিরে নগরের উন্মুক্ত স্থান, পরিবেশ এবং নাগরিক জীবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব ও নাঈম উল হাসান। তাদের বক্তব্য ঘিরে আলোচনা জমে ওঠে শহরের পরিকল্পনা, জনস্বার্থ ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নে।
উন্নয়নের নামে উপেক্ষার অভিযোগ
আমিরুল রাজীব বলেন, ঢাকার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। আবাসন খাতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে নাগরিক অধিকার ও পরিবেশগত বিষয়গুলো অনেক সময় উপেক্ষিত হয়—এ অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পান্থকুঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় দুই হাজার গাছ অপসারণ করা হয়েছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মত দেন বক্তারা।
১৬৮ দিনের আন্দোলন, আদালত ও পরিকল্পনা প্রশ্ন
নাঈম উল হাসান তার উপস্থাপনায় পান্থকুঞ্জ আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৬৮ দিনব্যাপী আন্দোলনের কার্যক্রমে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি আদালতে রিট দায়ের, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিকল্পনা প্রক্রিয়া এবং ব্যয়সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও ওঠে। পাশাপাশি আলোচনা হয় নগরায়ণের গতি ও পরিকল্পনার ঘাটতি নিয়ে।
শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের প্রশ্ন, বাসিন্দাদের উদ্বেগ
মূল উপস্থাপনার পর শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উঠে আসে ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্মুক্ত স্থানের ক্রম সংকোচন, পরিবেশ দূষণ এবং ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অভাবের মতো বিষয়গুলো। নগরবাসীর জীবনমান কীভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে—সেটিও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা সাদমান সাকিব বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের পর্যাপ্তভাবে অবহিত করা হয়নি। তিনি মনে করেন, পান্থকুঞ্জ এলাকাটি স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উন্মুক্ত স্থান ছিল। প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক, পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আরও ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে।
সবার আহ্বান—পরিবেশ, অংশগ্রহণ, টেকসই পরিকল্পনা
বক্তারা বলেন, নগর উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার অবশিষ্ট উন্মুক্ত স্থান ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রশ্নোত্তর
১) গোলটেবিলের মূল বিষয় কী ছিল?
পান্থকুঞ্জ পার্কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ‘আরবান কমন্স’ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা।
২) বাসিন্দাদের আপত্তি কোথায়?
প্রকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া এবং উন্মুক্ত স্থানের ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ।
৩) কী ধরনের উদ্যোগের দাবি উঠেছে?
পরিবেশ সংরক্ষণ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং টেকসই নগর পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









