ফিফার দলবদল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ঝড়ে টালমাটাল বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী—দেশের পরিচিত দুই শক্তির ওপর চাপ এমন পর্যায়ে গেছে যে আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের কাঠামো নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে।
কী অবস্থায় পড়েছে কিংস-আবাহনী

ফিফার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে রয়েছে ১১টি অভিযোগ এবং আবাহনীর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ। এর মধ্যে আবাহনী ইতোমধ্যে দুটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পেরেছে, তবে একটি অভিযোগ এখনো বহাল। অন্যদিকে একাধিক মামলার চাপে বসুন্ধরা কিংস সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে।
দলবদল স্থগিত, পরিকল্পনা প্রায় থমকে
বসুন্ধরা কিংসের ক্ষেত্রে দলবদল কার্যক্রম স্থগিত থাকায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দল গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে শুধু ক্লাবের প্রস্তুতি নয়, পুরো প্রতিযোগিতার গতি ও মান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
শীর্ষ লিগে ন্যূনতম ১০ দল—ঝুঁকি
ফিফার বিধি অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক শীর্ষ লিগে নির্দিষ্টসংখ্যক দল রাখা জরুরি। সংখ্যাটা কমপক্ষে ১০। যদি বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিগে অংশ নিতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের কাঠামোই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই উদ্বেগটা কেবল মাঠের জন্য নয়—সমগ্র ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়েই।
বাফুফের বিকল্প ব্যবস্থা, তবু দুশ্চিন্তা
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই শীর্ষ লিগে অন্তত ১০টি দল রাখা হবে। সে কারণে গত মৌসুমে অবনমিত হওয়া আরামবাগ ও ইয়ংমেন্স ক্লাবকে শীর্ষ লিগে রেখে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল ঢাকা ওয়ান্ডার্সের আবেদন বিবেচনা করে তাদেরও বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে একটি দল ঢুকিয়ে সংখ্যাটা ঠিক রাখা গেলেও কিংস ও আবাহনী না থাকলে প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখা কঠিন হবে—এ আশঙ্কাই বড়। দেশীয় ফুটবলের সবচেয়ে সফল দুই ক্লাব ছিটকে গেলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রভাব মাঠের বাইরে
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। বসুন্ধরা কিংসের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের অনিশ্চয়তার কারণে নতুন ক্লাব খোঁজার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় খেলোয়াড়রাও নিজের পেশাদার ক্যারিয়ার সুরক্ষিত রাখতে বিকল্প পথ খুঁজছেন। ফলে শক্তিশালী দল গড়া কতটা সম্ভব হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রশ্নটা প্রবাসী দর্শকের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ—কারণ ঘরোয়া লিগের গ্রহণযোগ্যতা, বিনিয়োগ, সম্প্রচারস্বত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সবকিছুর ওপরই এই অস্থিরতা প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে জিজ্ঞাসা
বাফুফে কি শীর্ষ লিগে দলের সংখ্যা ঠিক রাখবে?
হ্যাঁ, যেকোনো পরিস্থিতিতেই শীর্ষ লিগে অন্তত ১০টি দল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কেন কিংস ও আবাহনী থাকাটা জরুরি?
কারণ দেশীয় ফুটবলের মান ও প্রতিযোগিতার প্রাণ ধরে রাখতে এই দুই ক্লাবের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
নিষেধাজ্ঞা কাটলেই কি অনিশ্চয়তা শেষ হবে?
শেষ হলেও দল গঠন ও পরিকল্পনা কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হবে—তা নিয়ে শঙ্কা থাকছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









