খেলোয়াড় নিবন্ধন আর দলবদলের পুরো পরিকল্পনা এখন একটাই বাধায় আটকে আছে। বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনীর ওপর থাকা ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কবে কাটে—এই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঘনিষ্ঠ আলোচনায়। আবাহনী বলছে, তারা দ্রুতই নিষেধাজ্ঞামুক্ত হওয়ার পথে।
আবাহনীর নিষেধাজ্ঞা কাটাতে তৎপরতা

ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে আবাহনী এখন যে প্রক্রিয়ার ভেতর আছে, সেটা মূলত বিদেশি খেলোয়াড়দের অভিযোগ নিষ্পত্তির সঙ্গে জড়িত। ক্লাবটির ফুটবল দলের ম্যানেজার সদ্যজিৎ দাস রুপুর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা পুরো নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
অভিযোগের জায়গায় সমাধান, কাউকে বাকি রাখল না
নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে তিন বিদেশি খেলোয়াড়ের অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে একজন অভিযোগ তুলে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে—আরেকজনের পাওনা গতকাল রাতে দেওয়া হয়েছে। বাকি একজনের পাওনা আরও অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। রুপু বলেন, এই চিঠি পাওয়ার বিষয়টাও দ্রুতই হতে পারে।
কেন ফিফার নিষেধাজ্ঞা—চুক্তি বাতিল ও বকেয়া ইস্যু
আবাহনীর জটিলতাটা শুরু হয়েছিল ক্লাবের আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে। দলবদলের শেষ দিনে খেলোয়াড় নিবন্ধন করার কথা থাকলেও বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করা চুক্তি অর্থ সংকটে একতরফাভাবে বাতিল করা হয়। এর পরই ঘরোয়া আসরে খেলোয়াড়দের নিবন্ধন নিয়ে বাধা তৈরি হয়।
গত মৌসুমে আবাহনী ঘরোয়া লড়াইয়ে সফল হলেও এই ধাক্কা তাদের দল গঠনের পরিকল্পনায় দেরি ঘটিয়েছে। ফলে আসন্ন নতুন মৌসুমের স্কোয়াড গঠনও এখন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
দায়মুক্তির আগে দল গড়া—এটাই ক্লাবের লক্ষ্য
রুপুর মতে, নিষেধাজ্ঞা তাদের কাছে শুধু নিয়মগত বিষয় নয়—মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবেও দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছে, আগে সব দায় ঠিকমতো গুছিয়ে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হতে পারলেই তারপর দলবদলে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া যাবে। ক্লাবটি প্রত্যাশা করছে, নতুন মৌসুমে ভালো মানের একটি দল নিয়েই মাঠে নামতে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘরোয়া ফুটবলের তারকাবহুল দল, ম্যাচের উত্তেজনা এবং ক্লাবভিত্তিক স্বপ্ন—সবকিছুই জড়িত থাকে ঠিকমতো খেলোয়াড় নিবন্ধন আর দলবদল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে। নিষেধাজ্ঞা না কাটলে সমর্থকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়; আর কাটলে শুরু হয় মাঠের লড়াই।
প্রশ্নোত্তর
আবাহনী কত দ্রুত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে চায়?
ক্লাবটির বক্তব্য, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার পথে থাকতে চায়।
নিষেধাজ্ঞার মূল ভিত্তি কী ছিল?
বিদেশি খেলোয়াড়দের বেতন-বকেয়া এবং চুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ফিফার পদক্ষেপ।
নিষেধাজ্ঞা কাটলে আবাহনীর পরের কাজ কী?
তারপরই তারা নতুন মৌসুমের দলবদলে মনোযোগ দিতে পারবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









