GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / বিদেশি ট্যুর প্যাকেজে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স সুযোগ

বিদেশি ট্যুর প্যাকেজে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি এবং বিদেশি ট্যুর প্যাকেজ সংক্রান্ত গ্রাফিক

বিদেশে ভ্রমণের ট্যুর প্যাকেজ কিনলেই এবার ভ্রমণকারীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় টাকায় প্যাকেজের মূল্য পরিশোধ করে সেই অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট একটি সীমার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক—এ সুবিধা থাকছে বিদ্যমান ট্রাভেল কোটার বাইরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি এবং বিদেশি ট্যুর প্যাকেজ সংক্রান্ত গ্রাফিক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এতে বিদেশগামী পর্যটন খাতের সুশৃঙ্খল বিকাশ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা বজায় রাখার লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় টাকায় প্যাকেজ, ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা

নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য স্থানীয় টাকায় সংগ্রহ করতে পারবেন। তারপর অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক প্রচলিত বিনিময় হারে সংশ্লিষ্ট বিদেশি সেবাদাতার অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে।

ফলে, কোনো নাগরিক বিদেশ ভ্রমণের জন্য স্থানীয় ট্যুর অপারেটরের কাছে প্যাকেজ কিনলে তাকে সরাসরি বিদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর জটিল প্রক্রিয়ায় যেতে হবে না। স্থানীয় অপারেটর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ নিষ্পত্তি করতে পারবে।

সুবিধা কারা পাবে

এই সুবিধা পাবে শুধু ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিওএবি)-এর সদস্য স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে কার্যকর চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে।

ট্রাভেল কোটার বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার

নতুন নীতির আওতায় একজন ভ্রমণকারীর জন্য প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ পাঠানো যাবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ৩ হাজার ডলারের সুবিধা বিদ্যমান বার্ষিক ট্রাভেল কোটার বাইরে বিবেচিত হবে।

বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের কাছে এ সুবিধায় ট্যুর প্যাকেজ বিক্রি করা যাবে না। তাদের ক্ষেত্রে প্যাকেজ বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে এবং ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট কার্ডের acquiring service দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩ হাজার ডলারের বেশি হলে কী হবে

ট্যুর প্যাকেজের মূল্য নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে অতিরিক্ত অর্থও নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় পরিশোধ করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অর্থ আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় সংগ্রহ করতে হবে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক acquiring service দিতে পারবে—এভাবেই লেনদেনটি হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবার-পরিজনদের বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে ট্যুর কেনা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো—যা খরচের হিসাব ও সময় দুটোতেই কাজে লাগতে পারে।


প্রশ্নোত্তর

১) ৩ হাজার ডলার কার জন্য প্রযোজ্য?
বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য, প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত—ট্রাভেল কোটার বাইরে।

২) ট্যুর প্যাকেজ কেনার অর্থ কীভাবে দিতে হবে?
স্থানীয় ট্যুর অপারেটরের কাছ থেকে স্থানীয় টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করা যাবে।

৩) কারা এই সুবিধা দিতে পারবে?
টিওএবি সদস্য স্থানীয় ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে, যাদের বিদেশি সেবাদাতার সঙ্গে চুক্তি/সমঝোতা আছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: dailyinqilab.com

Social Icons