হাসিনা রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে টান পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর বক্তব্য, ভারত যদি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক চাল চালানোর সুযোগ দেয়, তবে সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের প্রশ্ন উঠবে।
ভারতকে সতর্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত যদি গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে ভারতকে ভাবতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে এক দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের পদক্ষেপের সুবিধা দেওয়া আর অপরদিকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাওয়া—এ দুই বিষয় একসঙ্গে চলে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা, ভারতের কর্তৃপক্ষ ও সরকার বিষয়টি বুঝবে।
কূটনৈতিক সম্পর্কে পারস্পরিক নির্ভরতার কথা
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে রাখতে চায় সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক নির্ভরতার ভিত্তিতে। তাই বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে যেন কোনো রকম সমর্থন না আসে—এই আহ্বানও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
গণ-অভ্যুত্থানকে ‘হঠাৎ নয়’ বললেন তিনি
আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণ-অভ্যুত্থান কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ ত্যাগ ও আন্দোলনের ফল। নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশেও তিনি পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার গুরুত্বের কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা ও শিক্ষার্থীদের বার্তা
তিনি বলেন, রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি ষড়যন্ত্র ও উসকানিতে পা না দিতে বিএনপির বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান। সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টার কথাও তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল—গালি বা অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের মাধ্যমে, কিন্তু কোনোভাবেই সহিংসতায় জড়ানো যাবে না।
প্রবাসী পাঠকের জন্য গুরুত্ব
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের বার্তা সরাসরি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেশী দেশের অবস্থান পাল্টালে কূটনীতি, শ্রমবাজার ও দৈনন্দিন যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে। তাই হাসিনা রাজনৈতিক তৎপরতা ঘিরে ভারতের অবস্থান নিয়ে এই সতর্কবার্তা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
প্রশ্নোত্তর
১) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বিষয়ে ভারতকে সতর্ক করলেন?
তিনি বলেন, ভারত যদি হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে ভারতকে নতুন করে ভাবতে হবে।
২) সভায় আর কী বার্তা ছিল?
তিনি গণ-অভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলনের ফল বলে উল্লেখ করেন এবং সহিংসতায় না জড়ানোর নির্দেশ দেন।
৩) এটি প্রবাসীদের জন্য কেন প্রাসঙ্গিক?
প্রতিবেশী সম্পর্কের টানাপোড়েন কূটনীতি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রভাব ফেলতে পারে—সেই দিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









